শীতলকুচি, ২১ মেঃ শীতলকুচির পাঠানটুলি এলাকায় এক তৃণমূল নেতার রহস্যমৃত্যুকে ঘিরে ব্যাপক চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে। মৃতের নাম যোগেন বর্মন। তিনি গোলেনাওহাটি অঞ্চলের তৃণমূল কংগ্রেসের কার্যকরী সভাপতি ছিলেন বলে স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে। এছাড়াও তিনি এলাকার এক পঞ্চায়েত সদস্যার শ্বশুর বলেও জানা যায়। তাঁর অস্বাভাবিক মৃত্যুর ঘটনায় এলাকাজুড়ে শুরু হয়েছে নানা জল্পনা।
স্থানীয় সূত্রে খবর, বুধবার রাতে পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে খাওয়া-দাওয়া সেরে নিজের ঘরে ঘুমোতে যান যোগেন বর্মন। বৃহস্পতিবার সকালে পরিবারের লোকজন তাঁর ঘরের দরজা বন্ধ দেখতে পান। পরে ডাকাডাকি করেও কোনও সাড়া না মেলায় ঘরের ভিতরে গিয়ে তাঁকে ঝুলন্ত অবস্থায় দেখতে পান বলে অভিযোগ। সঙ্গে সঙ্গে খবর দেওয়া হয় শীতলকুচি থানায়।
ঘটনার খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে মৃতদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য পাঠায়। প্রাথমিকভাবে এটি আত্মঘাতীর ঘটনা বলেই অনুমান করা হলেও, মৃত্যুর আসল কারণ জানতে তদন্ত শুরু করেছে পুলিশ। পরিবারের সদস্যদেরও জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে বলে সূত্রের খবর।
এই ঘটনাকে ঘিরে নতুন করে রাজনৈতিক মহলেও চর্চা শুরু হয়েছে। কারণ, ২০২১ সালের বিধানসভা নির্বাচনের সময় এই একই বুথ এলাকায় ভোট দিতে গিয়ে গুলিবিদ্ধ হয়ে মৃত্যু হয়েছিল আনন্দ বর্মনের। সেই ঘটনার রেশ কাটতে না কাটতেই ফের এক তৃণমূল নেতার অস্বাভাবিক মৃত্যু ঘিরে নানা প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে।
স্থানীয়দের একাংশের দাবি, এই মৃত্যুর পিছনে রাজনৈতিক চাপ, মানসিক অবসাদ নাকি পারিবারিক অশান্তি তা খতিয়ে দেখা উচিত। যদিও এখনও পর্যন্ত পুলিশ কোনও নির্দিষ্ট কারণ সম্পর্কে কিছু জানায়নি।
শীতলকুচি থানার পুলিশ জানিয়েছে, ময়নাতদন্তের রিপোর্ট হাতে এলেই মৃত্যুর প্রকৃত কারণ সম্পর্কে স্পষ্ট ধারণা পাওয়া যাবে। আপাতত পুরো ঘটনার তদন্ত শুরু হয়েছে এবং সমস্ত দিক খতিয়ে দেখা হচ্ছে।





