কলকাতা, ১৭ মেঃ রাজ্যের রাজনৈতিক পালাবদলের আবহে ফের শিরোনামে উঠে এল শোভন চট্টোপাধ্যায় ও বৈশাখী বন্দ্যোপাধ্যায়ের নাম। একসময় তৃণমূল কংগ্রেসের গুরুত্বপূর্ণ মুখ ছিলেন শোভন চট্টোপাধ্যায়। পরে বৈশাখী বন্দ্যোপাধ্যায়কে সঙ্গে নিয়ে বিজেপিতে যোগ দেন তিনি। যদিও সেই রাজনৈতিক অধ্যায় দীর্ঘস্থায়ী হয়নি। কয়েকমাস আগে ফের তৃণমূলে প্রত্যাবর্তন করেছিলেন তাঁরা। কিন্তু সাম্প্রতিক বিধানসভা নির্বাচনে তাঁদের সক্রিয় ভূমিকায় দেখা যায়নি। এবার পালাবদলের পর প্রকাশ্যে তৃণমূলের একাংশের বিরুদ্ধে তীব্র ক্ষোভ উগরে দিলেন বৈশাখী বন্দ্যোপাধ্যায়।
একটি সংবাদমাধ্যমকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে বৈশাখী একাধিক বিস্ফোরক অভিযোগ করেন। তাঁর দাবি, রাজনৈতিক কারণে তাঁকে ও তাঁর পরিবারকে ভয় দেখানোর চেষ্টা করা হয়েছিল। বৈশাখীর কথায়, “আমি শোভনের সঙ্গে বাইরে খেতে গিয়েছিলাম। সেই সময় একটি অচেনা নম্বর থেকে ফোন আসে। পরে জানা যায়, ফোনটি করেছিলেন আমার এক নারী নিরাপত্তারক্ষীর স্বামী।”
বৈশাখীর অভিযোগ, ওই ফোনেই তাঁকে জানানো হয়েছিল তাঁর মেয়েকে খুন করার পরিকল্পনা করা হয়েছে। শুধু তাই নয়, তাঁর মুখে অ্যাসিড হামলার জন্যও সুপারি দেওয়া হয়েছিল বলে দাবি করেন তিনি। এখানেই শেষ নয়, শোভন চট্টোপাধ্যায়ের বিরুদ্ধে ভুয়ো ধর্ষণ মামলা সাজানোর চক্রান্ত হয়েছিল বলেও অভিযোগ করেন বৈশাখী।
এদিন তিনি সরাসরি তৃণমূল নেতা ফিরহাদ হাকিমের নাম উল্লেখ করে বলেন, “ফিরহাদ হাকিম আমাকে হুমকি দিয়েছিলেন, কলেজ থেকে ‘উখাড়কে ফেক দেঙ্গে’। আজ মানুষই তাঁদের দলকে অনেক জায়গা থেকে উপড়ে ফেলেছে।” যদিও এই অভিযোগের বিষয়ে ফিরহাদ হাকিম বা তৃণমূল নেতৃত্বের তরফে এখনও পর্যন্ত কোনও প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি।
রাজনৈতিক মহলের একাংশের মতে, দীর্ঘদিন নীরব থাকার পর পালাবদলের আবহে বৈশাখীর এই মন্তব্য তাৎপর্যপূর্ণ। শোভন-বৈশাখী জুটিকে ঘিরে বাংলার রাজনীতিতে বরাবরই কৌতূহল ছিল। তৃণমূল থেকে বিজেপি এবং পরে আবার তৃণমূলে প্রত্যাবর্তন তাঁদের রাজনৈতিক সফর বারবার আলোচনায় এসেছে।
তবে এবারের অভিযোগকে ঘিরে নতুন রাজনৈতিক বিতর্ক তৈরি হয়েছে। বৈশাখীর দাবি, দলের একাংশের দম্ভ ও ক্ষমতার অপব্যবহারের ফলেই আজ তৃণমূলের এই রাজনৈতিক পরিণতি হয়েছে। তাঁর বিস্ফোরক মন্তব্য ঘিরে ইতিমধ্যেই রাজনৈতিক মহলে জোর চর্চা শুরু হয়েছে।





