বনগাঁ, ১৭ মে : ভারত-বাংলাদেশ সীমান্তে নিরাপত্তা জোরদার করতে কাঁটাতার নির্মাণের কাজ দ্রুত এগিয়ে নিয়ে যেতে উদ্যোগী হয়েছে রাজ্য সরকার। সেই লক্ষ্যেই রবিবার বনগাঁর পেট্রাপোল সীমান্তের কাঁটাতারবিহীন এলাকা পরিদর্শনে যান রাজ্যের খাদ্যমন্ত্রী তথা বনগাঁ উত্তরের বিধায়ক অশোক কীর্তনিয়া। সীমান্তবর্তী কালিয়ানি এলাকায় গিয়ে তিনি স্থানীয় বাসিন্দাদের সঙ্গে কথা বলেন এবং তাঁদের সমস্যার কথা শোনেন।এদিন সীমান্তবাসীরা স্পষ্টভাবে জানান, দেশের নিরাপত্তা ও সুরক্ষার স্বার্থে তাঁরা জমি দিতে প্রস্তুত। তবে জমির সঠিক মূল্য এবং ক্ষতিপূরণ পাওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত করার দাবি জানান গ্রামবাসীরা।
তাঁদের বক্তব্য, দীর্ঘদিন ধরে সীমান্তে কাঁটাতার না থাকায় চুরি, অনুপ্রবেশ এবং ফসল নষ্টের মতো নানা সমস্যার মুখোমুখি হতে হচ্ছে সাধারণ মানুষকে।স্থানীয়দের অভিযোগ, বাংলাদেশ সীমান্ত লাগোয়া বহু এলাকায় এখনও কাঁটাতার না থাকায় প্রায়ই গরু চুরি, ফসল কেটে নিয়ে যাওয়া এবং রাতের অন্ধকারে অনুপ্রবেশের ঘটনা ঘটে। ফলে আতঙ্কের মধ্যে দিন কাটাতে হয় সীমান্তের মানুষদের।
জমি সংক্রান্ত জটিলতার কারণেই এতদিন কাঁটাতার নির্মাণের কাজ আটকে ছিল বলে জানা গিয়েছে।এই পরিস্থিতিতে খাদ্যমন্ত্রী অশোক কীর্তনিয়া সীমান্তবাসীদের আশ্বস্ত করে বলেন, “দেশের নিরাপত্তার প্রশ্নে কোনও রকম সমঝোতা করা হবে না। দ্রুত কাঁটাতার দেওয়ার কাজ শুরু হবে। জমির দাম নিয়ে কোনও সমস্যা হবে না। জেলাশাসকের সঙ্গে আমার ইতিমধ্যেই কথা হয়েছে।”
মন্ত্রী আরও জানান, বসিরহাট মহকুমার তিনটি মৌজায় জমি নিয়ে কিছু সমস্যা রয়েছে। সেই সমস্যাগুলি দ্রুত মিটিয়ে ফেলার জন্য প্রশাসনকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। তিনি বলেন, রাজ্য সরকার বিএসএফ-কে প্রয়োজনীয় জমি দেওয়ার প্রক্রিয়া ইতিমধ্যেই শুরু করেছে।এদিন মন্ত্রীকে সামনে পেয়ে সীমান্ত এলাকার বাসিন্দারা তাঁদের দীর্ঘদিনের সমস্যার কথা তুলে ধরেন। তাঁদের বক্তব্য, দেশের নিরাপত্তা রক্ষার জন্য তাঁরা সরকারের পাশে রয়েছেন।
তবে জমির যথাযথ মূল্য ও পুনর্বাসনের বিষয়টিও গুরুত্ব দিয়ে দেখতে হবে।রাজনৈতিক মহলের মতে, রাজ্যে পালাবদলের পর সীমান্ত নিরাপত্তা নিয়ে সরকার যে সক্রিয় ভূমিকা নিতে শুরু করেছে, এই পরিদর্শন তারই ইঙ্গিত। সীমান্ত এলাকায় কাঁটাতার নির্মাণের কাজ সম্পূর্ণ হলে অনুপ্রবেশ ও চোরাচালান অনেকটাই নিয়ন্ত্রণে আসবে বলে মনে করছেন স্থানীয় বাসিন্দারা।





