ডায়মন্ড হারবার, ১৬ মেঃ রাজ্যের আইনশৃঙ্খলা ও পুলিশ প্রশাসনকে রাজনৈতিক প্রভাবমুক্ত করতে বড় পদক্ষেপের ঘোষণা করলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। শনিবার দক্ষিণ ২৪ পরগনার ডায়মন্ড হারবারে প্রশাসনিক বৈঠকের পর সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে তিনি বলেন, “আগে শাসকের শাসন ছিল, এখন আইনের শাসন আছে।” একইসঙ্গে পুলিশ ওয়েলফেয়ার বোর্ড ভেঙে দেওয়ার সিদ্ধান্তের কথাও ঘোষণা করেন তিনি।
মুখ্যমন্ত্রী অভিযোগ করেন, বামফ্রন্ট এবং তৃণমূল কংগ্রেস সরকারের আমলে পুলিশ প্রশাসনকে রাজনৈতিক স্বার্থে ব্যবহার করা হয়েছে। বিরোধীদের অভিযোগ গুরুত্ব পেত না এবং শাসকদলের সুবিধার্থে পুলিশ কাজ করত বলেও দাবি করেন তিনি। শুভেন্দুর কথায়, “এখন থেকে পুলিশ কোনও রাজনৈতিক দলের হয়ে নয়, আইনের ভিত্তিতে কাজ করবে।”
এদিন দক্ষিণ ২৪ পরগনার জেলাশাসক, ডায়মন্ড হারবার পুলিশ জেলার পুলিশ সুপার ও অন্যান্য আধিকারিকদের নিয়ে প্রশাসনিক বৈঠক করেন মুখ্যমন্ত্রী। বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন মুখ্যসচিব মনোজ কুমার আগরওয়ালও।
কেন্দ্রীয় ও রাজ্য সরকারি প্রকল্পে কাটমানির অভিযোগ উঠলে কড়া ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দেন মুখ্যমন্ত্রী। পাশাপাশি ভোট পরবর্তী হিংসা, নারী নির্যাতন এবং পুলিশের বিরুদ্ধে অত্যাচারের অভিযোগেও কঠোর পদক্ষেপ নেওয়ার কথা জানান তিনি।
এদিন তিনি কলকাতা পুলিশের ডিসি শান্তনু সিনহা বিশ্বাসের প্রসঙ্গও তোলেন। বর্তমানে ইডি হেফাজতে থাকা ওই পুলিশ আধিকারিকের বিরুদ্ধে প্রোমোটার, অপরাধী ও পুলিশের এক ত্রিমুখী সিন্ডিকেট চালানোর অভিযোগ রয়েছে। তদন্তকারী সংস্থার দাবি, নির্মাণ ব্যবসার সঙ্গে যুক্তদের কাছ থেকে বেআইনি টাকা আদায় এবং নির্দিষ্ট সিন্ডিকেট থেকে নির্মাণ সামগ্রী কিনতে বাধ্য করার মতো অভিযোগে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা ছিল তাঁর।
শুধু তাই নয়, আর জি কর কাণ্ড নিয়েও সরব হন মুখ্যমন্ত্রী। তাঁর অভিযোগ, আগের সরকার এই ঘটনাকে আড়াল করার চেষ্টা করেছিল। বিজেপি সরকার ক্ষমতায় আসার পর ফের সেই মামলার ফাইল খোলা হয়েছে। ইতিমধ্যেই কলকাতার প্রাক্তন নগরপাল বিনীত গোয়েল, তৎকালীন ডিসি সেন্ট্রাল ইন্দিরা মুখোপাধ্যায় এবং ডিসি নর্থ অভিষেক গুপ্তাকে সাসপেন্ড করা হয়েছে বলে জানান তিনি।
রাজ্য সরকার প্রশাসনকে সম্পূর্ণ স্বচ্ছ ও রাজনৈতিক প্রভাবমুক্ত করতে বদ্ধপরিকর বলেই এদিন স্পষ্ট বার্তা দেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী।





