মুর্শিদাবাদ, ৪ ডিসেম্বরঃ দলবিরোধী কাজ এবং ধর্মকে কেন্দ্র করে বিভাজনের রাজনীতি করার অভিযোগে ভরতপুরের তৃণমূল কংগ্রেস বিধায়ক হুমায়ুন কবীরকে সাসপেন্ড করল ঘাসফুল শিবির। বৃহস্পতিবার সকালে কলকাতায় সাংবাদিক বৈঠক করে দলের প্রবীণ নেতা, কলকাতার মেয়র তথা মন্ত্রী ফিরহাদ হাকিম এই সিদ্ধান্ত ঘোষণা করেন। কিন্তু দলীয় শাস্তিমূলক পদক্ষেপের পরই হুমায়ুন কবীর তৃণমূল ত্যাগের প্রস্তাব দিয়ে নতুন দল গঠনের পরিকল্পনার কথা জানিয়ে রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন জল্পনা তৈরি করেছেন।
সম্প্রতি বেলডাঙায় বাবরি মসজিদ নির্মাণের ঘোষণা করে বিতর্ক ছড়ান হুমায়ুন কবীর। তিনি জানান, আগামী ৬ ডিসেম্বর তিনি বাবরি মসজিদের শিলান্যাস করবেন। এই মন্তব্য প্রকাশ্যে আসতেই রাজনৈতিক মহলে তীব্র প্রতিক্রিয়া তৈরি হয়। তৃণমূল নেতৃত্ব জানিয়ে দেয়, ধর্মীয় ইস্যুকে সামনে রেখে বিভাজনের রাজনীতি দল বরদাস্ত করবে না।
এদিন সাংবাদিক বৈঠকে ফিরহাদ হাকিম বলেন, “আমরা হুমায়ুন কবীরকে দল থেকে সাসপেন্ড করছি। ধর্ম নিয়ে রাজনীতি করা, বিভাজনের রাজনীতি করা তৃণমূল কংগ্রেস এ ধরনের কর্মকাণ্ডের সঙ্গে কোনও সম্পর্ক রাখবে না। দলবিরোধী মন্তব্য ও আচরণ কাম্য নয়।” তিনি আরও জানান, দলের আদর্শের বিরুদ্ধে গিয়ে কোনও নেতা কাজ করলে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
অন্যদিকে, ফিরহাদের ঘোষণার পর হুমায়ুন কবীর জানিয়ে দেন, তিনি বিষয়টিকে কোনও গুরুত্ব দিচ্ছেন না। তাঁর বক্তব্য, “শুক্রবারই দল ছাড়ছি। ২২ ডিসেম্বর নতুন দল গঠন করব।” হুমায়ুনের দাবি, তিনি তাঁর ‘আন্দোলনের রাস্তায়’ এগোতেই নতুন রাজনৈতিক প্ল্যাটফর্ম গড়বেন।
রাজনৈতিক বিশেষজ্ঞদের মতে, হুমায়ুনের এই সিদ্ধান্তে মুর্শিদাবাদ ও ভরতপুর অঞ্চলে নতুন সমীকরণ তৈরি হতে পারে। তৃণমূলের তরফে তাঁকে সাসপেন্ড করা হলেও তাঁর নিজস্ব এলাকাভিত্তিক জনপ্রিয়তা নতুন দলকে কতটা শক্তি দেবে, তা এখন দেখার।
তৃণমূল সূত্রে খবর, দলের ভেতরে বিভাজনমূলক মন্তব্য বা ধর্মীয় উত্তেজনা ছড়ানোর বিরুদ্ধে কড়া নজরদারি চালানো হবে। অন্যদিকে, হুমায়ুন কবীরের নতুন দল গঠনের সিদ্ধান্ত রাজ্য রাজনীতিতে শেষ মাসের শেষদিকে বড় চাঞ্চল্য তৈরি করতে পারে।





