দিনহাটা, ৪ ডিসেম্বরঃ মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের কোচবিহারের জনসভা ঘিরে উত্তেজনার পরিবেশ তৈরি হলো কেএলও(কামতাপুর লিবারেশন অর্গানাইজেশন)-এর প্রধান জীবন সিংহের একটি ভিডিও বার্তাকে কেন্দ্র করে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভাইরাল হওয়া সেই ভিডিওতে তিনি আগামী ৯ ডিসেম্বর রাসমেলা মাঠে মুখ্যমন্ত্রীর সভা বয়কটের আহ্বান জানান।
জীবন সিংহ অভিযোগ করেন, রাজ্যের বর্তমান সরকার ‘কলকাতা-কেন্দ্রিক’ হয়ে রাজবংশী সম্প্রদায়ের ওপর নির্যাতন চালাচ্ছে। পাশাপাশি তিনি দাবি করেন, বিভিন্ন রাজবংশী সংগঠনের যৌথ আমরণ অনশন কর্মসূচিতে পুলিশ বাধা দিয়েছে, যা তাঁর মতে প্রশাসনের পক্ষপাতদুষ্ট আচরণেরই প্রমাণ।
তাঁর এই বার্তা প্রকাশ্যে আসতেই রাজনৈতিক মহলে তীব্র প্রতিক্রিয়া শুরু হয়। বিশেষ করে রাজ্যের উত্তরবঙ্গ উন্নয়ন মন্ত্রী উদয়ন গুহর মন্তব্য রাজনৈতিক উত্তাপ আরও বাড়িয়েছে। জীবন সিংহের বক্তব্যকে সম্পূর্ণ গুরুত্বহীন বলে উড়িয়ে দিয়ে মন্ত্রী বলেন, “ওর কথার কোনও দাম নেই। কোনও রাজবংশী মানুষ ওর কথা শুনবে না। ওর যদি সত্যিই দম থাকে তবে বাইরে আসুক এবং রাজনীতির কথা বলুক।”
মন্ত্রীর বক্তব্য এখানেই শেষ হয়নি। তিনি আরও বলেন, “ওর নাম জীবন সিংহ, কিন্তু আসলে সে শিয়াল, শুধু হুক্কা-হুয়া করে। আগামী ৯ ডিসেম্বর রাসমেলা মাঠেই মুখ্যমন্ত্রীর সভায় সবচেয়ে বেশি রাজবংশী মানুষ উপস্থিত থাকবে। কারণ মুখ্যমন্ত্রী রাজবংশী সম্প্রদায়ের উন্নয়নে অনেক কাজ করেছেন।”
রাজনৈতিক বিশেষজ্ঞদের মতে, জীবন সিংহের বার্তা যদিও সংগঠনের প্রভাব বিস্তারের চেষ্টা হিসেবে দেখা হচ্ছে, কিন্তু রাজ্যের শাসক দলের কাছে এর বাস্তবিক গুরুত্ব খুবই কম।





