নিজস্ব সংবাদদাতা, শিলিগুড়ি: এক রাতের পথ দুর্ঘটনা বদলে দিয়েছিল একটি পরিবারের জীবন। সেবক রোডে দ্রুতগতির গাড়ির ধাক্কায় যুবক শংকর ছেত্রীর মৃত্যুর প্রায় সাত মাস কেটে গিয়েছে। দুর্ঘটনার তদন্তে অভিযুক্ত চালক গ্রেফতারও হয়েছেন বলে পরিবারের দাবি। কিন্তু এখনও বিচার মেলেনি এই অভিযোগ তুলে এবার আদালতের সামনে পথে নামলেন শংকরের পরিবারের সদস্য, পরিজন এবং পরিচিতেরা। তাঁদের দাবি, দ্রুত বিচার করে দোষীর বিরুদ্ধে কঠোর আইনানুগ ব্যবস্থা নিতে হবে।
পরিবার সূত্রে জানা গিয়েছে, কয়েক মাস আগে গভীর রাতে সেবক রোড দিয়ে ভক্তিনগরের দিক থেকে পানিট্যাঙ্কির দিকে হাঁটছিলেন শংকর ছেত্রী এবং কাজল রায়। অভিযোগ, সেই সময় পিছন থেকে আসা একটি দ্রুতগতির সাদা গাড়ি তাঁদের ধাক্কা মারে। ধাক্কার অভিঘাত এতটাই জোরালো ছিল যে দু’জনেই রাস্তা থেকে প্রায় ২০-৩০ ফুট দূরে ছিটকে পড়েন।
দুর্ঘটনার পর স্থানীয়দের সাহায্যে দু’জনকে দ্রুত হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। কিন্তু চিকিৎসক শংকরকে মৃত বলে ঘোষণা করেন। গুরুতর জখম হন কাজল। শংকরের বাড়ি খড়িবাড়ি এলাকায় বলে জানা গিয়েছে।
ঘটনার পর থেকেই অভিযুক্ত গাড়ি এবং চালকের খোঁজে তদন্ত শুরু করে পুলিশ। পরিবারের দাবি, দুর্ঘটনার পর চালক গাড়ি নিয়ে পালিয়ে যায়। পরে সিসিটিভি ফুটেজ, গাড়ির নম্বর এবং প্রযুক্তিগত তথ্যের সাহায্যে তদন্ত এগোয়। অভিযুক্তকে চিহ্নিত করে গ্রেফতার করা হয় বলেও পরিবারের তরফে জানানো হয়েছে।
কিন্তু সেখানেই তাঁদের প্রশ্ন, গ্রেফতারের পরও এত দীর্ঘ সময় কেন? পরিবারের অভিযোগ, দুর্ঘটনার সিসিটিভি ফুটেজ-সহ গুরুত্বপূর্ণ তথ্য-প্রমাণ তদন্তকারীদের হাতে থাকার পরেও বিচারপ্রক্রিয়া এগোতে দেরি হচ্ছে। সেই ক্ষোভেই বৃহস্পতিবার আদালতের সামনে বিক্ষোভ দেখান তাঁরা।
বিক্ষোভে ছিলেন দুর্ঘটনার রাতে শংকরের সঙ্গে থাকা কাজল রায়ও। প্রিয়জনকে হারানোর যন্ত্রণা এক দিকে, অন্য দিকে দীর্ঘ আইনি অপেক্ষা দুইয়ের ভার নিয়েই পরিবারের দাবি, দুর্ঘটনার প্রকৃত ঘটনা দ্রুত আদালতের সামনে স্পষ্ট হোক। দোষী প্রমাণিত হলে তাঁর বিরুদ্ধে কঠোর আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হোক এবং শংকরের পরিবার ন্যায়বিচার পাক।
একটি দুর্ঘটনা কখনও শুধু একটি মৃত্যুর ঘটনা হয়ে থাকে না। তার সঙ্গে থেমে যায় একটি পরিবারের স্বাভাবিক জীবনও। তাই পরিবারের প্রশ্ন একটাই আর কত অপেক্ষা করলে মিলবে সেই কাঙ্ক্ষিত বিচার?





