চৌধুরীহাট, ১৯ অক্টোবরঃ ছোট্ট এক বালিকার মধ্যে দেবী দুর্গার মাতৃরূপের কল্পনা। মন্ত্রোচ্চারণ, শঙ্খধ্বনি আর ঢাকের বাদ্যে ভক্তির আবহ। মহাষ্টমীর সকালে চৌধুরীহাট রামকৃষ্ণ আশ্রমে সাড়ম্বরে অনুষ্ঠিত হল ঐতিহ্যবাহী কুমারী পুজো। দেবী আরাধনার এই বিশেষ পর্বকে ঘিরে সকাল থেকেই আশ্রম প্রাঙ্গণে ভিড় জমালেন ভক্ত ও দর্শনার্থীরা। পুষ্পাঞ্জলি নিবেদন থেকে কুমারী মায়ের দর্শন সব মিলিয়ে আশ্রম চত্বরে তৈরি হল এক পবিত্র আধ্যাত্মিক পরিবেশ।
দুর্গোৎসবের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ তিথি মহাষ্টমী। আর এই তিথির বিশেষ আকর্ষণ কুমারী পুজো। সনাতন ধর্মীয় বিশ্বাস অনুযায়ী, কুমারী বালিকার মধ্যে দেবী দুর্গার শক্তি ও মাতৃসত্তার প্রকাশ কল্পনা করে তাঁর আরাধনা করা হয়। নারীশক্তির প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদন এবং সৃষ্টির মধ্যে দেবীত্বকে অনুভব করার এই প্রাচীন রীতি দুর্গাপুজোর ঐতিহ্যে বিশেষ স্থান অধিকার করে রয়েছে।
সেই ঐতিহ্য মেনেই সোমবার মহাষ্টমীর সকালে চৌধুরীহাট রামকৃষ্ণ আশ্রমে আয়োজন করা হয় কুমারী পুজোর। বৈদিক মন্ত্রোচ্চারণ, শঙ্খধ্বনি ও ঢাকের আওয়াজে মুখরিত হয়ে ওঠে আশ্রম প্রাঙ্গণ। আশ্রমের সন্ন্যাসী ও পুরোহিতদের পরিচালনায় এক বালিকাকে নতুন বস্ত্র, পুষ্পমাল্য ও অলঙ্কারে সাজিয়ে নির্দিষ্ট আসনে বসানো হয়। এরপর দেবীরূপে তাঁকে কল্পনা করে শুরু হয় বিশেষ পুজো ও আরাধনা।
শুধু ধর্মীয় আচার নয়, ভক্তদের কাছে কুমারী পুজো এক গভীর আধ্যাত্মিক অনুভূতিরও নাম। ছোট্ট বালিকার মধ্যে জগজ্জননীকে প্রত্যক্ষ করার বিশ্বাস থেকেই এই পুজোর মাহাত্ম্য। সেই বিশ্বাসকে সামনে রেখেই ভোর থেকে আশ্রমে সমবেত হন বহু মানুষ। কুমারী মায়ের দর্শন এবং পুষ্পাঞ্জলি নিবেদনের মধ্য দিয়ে ভক্তরা দেবীর কাছে প্রার্থনা জানান। পুজো শেষে ভক্তদের মধ্যে প্রসাদ বিতরণ করা হয়।
শ্রীশ্রী রামকৃষ্ণ পরমহংসদেবের ভাবধারা এবং স্বামী বিবেকানন্দের আদর্শে রামকৃষ্ণ মঠ ও মিশনের বিভিন্ন কেন্দ্রে কুমারী পুজোর বিশেষ তাৎপর্য রয়েছে। সেই ভাবধারাকে সামনে রেখেই চৌধুরীহাট রামকৃষ্ণ আশ্রমে প্রতি বছর নিষ্ঠা ও ভক্তির সঙ্গে এই পুজোর আয়োজন করা হয়।
মহাষ্টমীর সকালে এই আয়োজন যেন আরও একবার মনে করিয়ে দিল, দেবী আরাধনার মধ্য দিয়ে নারীশক্তির প্রতি শ্রদ্ধা ও মাতৃভাবের প্রকাশই কুমারী পুজোর মূল সুর। ভক্তি, বিশ্বাস ও ঐতিহ্যের মেলবন্ধনে চৌধুরীহাট রামকৃষ্ণ আশ্রমের মহাষ্টমী হয়ে উঠল বিশেষ তাৎপর্যপূর্ণ।





