কলকাতা, ১৩ অক্টোবরঃ ক্রিসমাস এলেই রঙিন আলোয় সেজে ওঠে পার্ক স্ট্রিট। শীতের কলকাতায় উৎসবের অন্যতম ঠিকানা এই রাস্তা। কিন্তু এ বার ডিসেম্বরের অপেক্ষা না করেই আলোয় সেজে উঠেছে পার্ক স্ট্রিটের অ্যালেন পার্ক। কারণ, সেখানে শুরু হয়েছে দুর্গার আরাধনা। বিজেপির যুব নেতা শঙ্কুদেব পণ্ডার উদ্যোগে এই প্রথম অ্যালেন পার্কে দুর্গাপুজোর আয়োজন যা ঘিরে রাজনৈতিক ও সাংস্কৃতিক মহলে তৈরি হয়েছে নতুন কৌতূহল।
সোমবার, মহালয়ার পর দ্বিতীয়ার সন্ধ্যায় কলকাতার একাধিক পুজোর উদ্বোধন সেরে অ্যালেন পার্কে পৌঁছন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। ঘড়িতে তখন রাত ১১টা। দিনের ব্যস্ততা সত্ত্বেও হাসিমুখেই পুজোর সূচনা করেন তিনি। সঙ্গে ছিলেন বিজেপি সাংসদ তথা দলের প্রাক্তন রাজ্য সভাপতি সুকান্ত মজুমদার। উদ্যোক্তা শঙ্কুদেবকে পাশে নিয়ে বক্তব্য রাখতে গিয়ে পার্ক স্ট্রিটে দুর্গাপুজোর আয়োজনকে বিশেষ তাৎপর্যপূর্ণ বলে তুলে ধরেন মুখ্যমন্ত্রী।
শুভেন্দুর কথায়, “এত দিনে পার্ক স্ট্রিট শুদ্ধ হল, মায়ের আগমনে। এত বছরে তো কোনও পুজো হয়নি। পুজো করতে হাই কোর্টে যেতে হত।” তিনি আরও বলেন, “একদম রাষ্ট্রবাদী টিম পুরো হাজির।” তাঁর দাবি, আগে পার্ক স্ট্রিটে ‘টুকরে-টুকরে গ্যাং’-এর উৎপাত ছিল। এ বার দুর্গার আগমনে গোটা এলাকা পবিত্র হয়েছে বলেও মন্তব্য করেন তিনি। একই সঙ্গে এই পুজোকে ধরে রাখার আহ্বান জানান উদ্যোক্তাদের।
শুধু উদ্বোধনেই থেমে থাকেননি মুখ্যমন্ত্রী। পুজোর মধ্যে এক দিন অ্যালেন পার্কে এসে ভোগ খাওয়ার ইচ্ছাও প্রকাশ করেছেন তিনি। তাঁর বক্তব্যে উঠে এসেছে ঐতিহ্য, সংস্কৃতি ও পরম্পরা রক্ষার প্রসঙ্গ। মহালয়ায় দেবীকে বরণ করার আয়োজন নিয়েও মন্তব্য করেন শুভেন্দু।
এ দিনের পুজোয় উপস্থিত ছিলেন বিশিষ্ট লেখিকা তসলিমা নাসরিনও। কলকাতায় থাকাকালীন অ্যালেন পার্কের দুর্গাপুজো দেখতে গিয়ে আয়োজনের প্রশংসা করেন তিনি। পরে সমাজমাধ্যমে নিজের প্রতিক্রিয়াও জানান।
ক্রিসমাসের আলোকসজ্জা ও উৎসবের সঙ্গে দীর্ঘদিন ধরে জড়িয়ে থাকা পার্ক স্ট্রিটে শরতের দুর্গাপুজো তাই এ বার নতুন সংযোজন। এই আয়োজন আগামী দিনে কতটা জায়গা করে নেয়, নজর থাকবে সে দিকেই।





