নয়াদিল্লী, ২৫ সেপ্টেম্বরঃ নির্বাচন প্রক্রিয়া নিয়ে প্রশ্ন উঠছে। ভোটার তালিকা, এসআইআর এবং নির্বাচন কমিশনের ভূমিকা নিয়ে বিরোধী দলগুলি সরব। কেউ চাইছেন মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের পদত্যাগ, কেউ চাইছেন এসআইআর বন্ধ হোক, আবার কেউ নির্বাচন প্রক্রিয়া নিয়ে আরও তদন্তের দাবি তুলছেন। এই আবহেই বিরোধীদের উল্টো প্রশ্ন ছুড়ে দিলেন ককরোচ জনতা পার্টির প্রতিষ্ঠাতা অভিজিৎ দীপকে নির্বাচন ব্যবস্থা যদি সত্যিই ত্রুটিপূর্ণ বা কারচুপিযুক্ত বলে মনে হয়, তা হলে সেই ব্যবস্থার অধীনেই ভোটে অংশ নেওয়া কেন?
দীপকের বক্তব্য, কোনও রাজনৈতিক দল যদি মনে করে নির্বাচন ব্যবস্থাই অবৈধ বা কারচুপির শিকার, তা হলে সেই নির্বাচন বয়কট করাই তাঁদের অবস্থানের সঙ্গে সঙ্গতিপূর্ণ। তাঁর যুক্তি, এক দিকে নির্বাচনী ব্যবস্থাকে প্রশ্ন করা, অন্য দিকে সেই ব্যবস্থার মধ্যেই ভোটে অংশ নেওয়া এই দুই অবস্থানের মধ্যে ফারাক রয়েছে।
সম্প্রতি নির্বাচন কমিশনের অন্দরে মতপার্থক্য সংক্রান্ত একটি সংবাদ প্রতিবেদন প্রকাশ্যে আসার পর জাতীয় রাজনীতিতে নতুন করে বিতর্ক শুরু হয়েছে। সেই রিপোর্টে দাবি করা হয়েছিল, এসআইআর-সহ কমিশনের কয়েকটি সিদ্ধান্ত নিয়ে দুই নির্বাচন কমিশনার আপত্তি জানিয়েছিলেন। যদিও কমিশনের তরফে পরে বলা হয়, চূড়ান্ত সিদ্ধান্তগুলি তিন কমিশনারের সম্মতিতেই হয়েছে।
এই আবহেই দীপকের মন্তব্যের তাৎপর্য আলাদা। তিনি প্রশ্ন তুলেছেন, যদি বিরোধী দলগুলির অভিযোগ হয় যে নির্বাচনী প্রক্রিয়াই সুষ্ঠু নয়, তা হলে ভোটে অংশ নিয়ে সেই ব্যবস্থাকে পরোক্ষে বৈধতা দেওয়া হচ্ছে না তো? তাঁর মতে, শুধু কমিশনের বিরুদ্ধে রাজনৈতিক বক্তব্য রাখলে হবে না, নিজেদের অবস্থানও স্পষ্ট করতে হবে।
এর মধ্যেই ককরোচ জনতা পার্টি জ্ঞানেশ কুমারের পদত্যাগের দাবিতে ৪৮ ঘণ্টার সময়সীমা দিয়েছে। সময়সীমা পেরিয়ে গেলে দেশজুড়ে আন্দোলনের হুঁশিয়ারিও দেওয়া হয়েছে।
ফলে নির্বাচন কমিশনকে ঘিরে বিতর্ক এখন শুধু কমিশনের সিদ্ধান্ত বনাম বিরোধীদের অভিযোগে আটকে নেই। সামনে উঠে এসেছে আরও মৌলিক প্রশ্ন ব্যবস্থা বদলের দাবি জানালে সেই ব্যবস্থার সঙ্গে রাজনৈতিক দলগুলির সম্পর্ক ঠিক কী হবে? দীপকের প্রশ্ন আপাতত সেই বিতর্কেই নতুন মাত্রা যোগ করেছে।





