বাঁকুড়া, ৩০ ডিসেম্বরঃ এসআইআর শুনানিকে ঘিরে ফের উত্তাল রাজ্য রাজনীতি। বৃদ্ধ-বৃদ্ধা ও বিশেষ ক্ষমতাসম্পন্নদের শুনানিতে ডাকার যৌক্তিকতা নিয়ে একাধিকবার মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিকদের দ্বারস্থ হয়েছে তৃণমূল কংগ্রেস। মঙ্গলবার বাঁকুড়ার বড়জোড়ার সভা থেকে এই ইস্যুতেই সরব হলেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। তাঁর কড়া অভিযোগ, “৬০-৭০ বছরের বৃদ্ধ-বৃদ্ধাদের ডাকছে। পুরুলিয়ায় এক বৃদ্ধের মৃত্যু হয়েছে। ওরা বাবা-মাকে সম্মান করে না।”
এদিন সভা থেকে মুখ্যমন্ত্রী স্পষ্ট হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, একজনও বৈধ ভোটারের নাম যদি তালিকা থেকে বাদ যায়, তাহলে দিল্লিতে জাতীয় নির্বাচন কমিশনের দপ্তর ঘেরাও করা হবে। তাঁর বক্তব্য, এসআইআর প্রক্রিয়ার নামে সাধারণ মানুষকে হেনস্তা করা হচ্ছে, যা কোনওভাবেই মেনে নেওয়া হবে না।
বর্তমানে রাজ্যে এসআইআর শুনানির পর্ব চলছে। বহু মানুষ হিয়ারিংয়ের নোটিস পেয়েছেন, যার মধ্যে রয়েছেন প্রবীণ নাগরিক ও দিব্যাঙ্গরাও। অভিযোগ, দীর্ঘ লাইনে দাঁড়িয়ে অনেকেই অসুস্থ হয়ে পড়ছেন। এই পরিস্থিতি নিয়ে আগেই তৃণমূলের প্রতিনিধি দল সিইও দপ্তরে গিয়ে আপত্তি জানিয়েছিল। মঙ্গলবার সেই ক্ষোভই প্রকাশ্যে আনলেন মুখ্যমন্ত্রী।
মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন, “এসআইআর পর্বে ৫৮ থেকে ৬০ জনের মৃত্যু হয়েছে। গতকাল পুরুলিয়ায় একজন বৃদ্ধের মৃত্যু হয়েছে। এসআইআর-এর কারণে এত মানুষ প্রাণ হারিয়েছে। ওরা বয়স্ক মানুষদের সম্মান করতে জানে না।”
প্রসঙ্গত, সোমবার এসআইআর শুনানির চাপ ও মানসিক দুশ্চিন্তার মধ্যে প্রাণ হারান পুরুলিয়ার ৮২ বছরের বৃদ্ধ দুর্জন মাঝি। শুনানির চিঠি পাওয়ার পর থেকেই হতাশায় ভুগছিলেন তিনি। সোমবার ব্লক অফিসে যাওয়ার আগে টোটো খুঁজতে বেরিয়ে নিখোঁজ হন। কয়েক ঘণ্টা পর বাড়ির অদূরে রেললাইন থেকে তাঁর মৃতদেহ উদ্ধার হয়। মঙ্গলবার এই ঘটনায় মুখ্য নির্বাচন কমিশনার ও রাজ্যের মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিক মনোজ আগরওয়ালের বিরুদ্ধে থানায় অভিযোগ দায়ের করেছে মৃতের পরিবার। এসআইআর প্রক্রিয়া নিয়ে প্রশাসনের ভূমিকা ও মানবিকতার প্রশ্নে বিতর্ক যে আরও বাড়ছে, তা এখন স্পষ্ট।





