চিংড়িঘাটা, ১৫ অক্টোবরঃ পুজোর আগে শহর সাজানোর তাড়ায় রাস্তার রংই কি বিপদের কারণ হয়ে দাঁড়াল? উৎসবের মুখে চিংড়িঘাটা উড়ালপুলে পর পর বাইক পিছলে পড়ার ভিডিও ভাইরাল হতেই উঠছে এই প্রশ্ন। বৃষ্টির জলে ভেজা রঙিন রাস্তার উপর দিয়ে যেতে গিয়ে নিয়ন্ত্রণ হারাচ্ছেন বাইকচালকেরা। সেই ঘটনায় মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর নির্দেশে তদন্ত শুরু হয়েছে। আর তার জেরেই এ বার সতর্ক প্রশাসন। রাতারাতি চিংড়িঘাটা উড়ালপুল থেকে রং তোলার কাজ শুরু হয়েছে। শুধু কলকাতা নয়, একই আশঙ্কায় আসানসোলেও সৌন্দর্যায়নের জন্য দেওয়া রং তুলে দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
উৎসবের আগে শহরের রাস্তাগুলিকে নতুন রূপ দিতে বিভিন্ন জায়গায় রং করে সাজানোর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছিল। কিন্তু সেই রংই বৃষ্টির দিনে কতটা নিরাপদ, তা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। বুধবার দুপুরে বৃষ্টির পর চিংড়িঘাটা উড়ালপুলে একাধিক বাইক পিছলে পড়ে বলে অভিযোগ। ঘটনার ভিডিও সমাজমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়তেই বিষয়টি প্রশাসনের নজরে আসে। ‘অ্যান্টি-স্কিড’ রং ব্যবহার করা সত্ত্বেও কেন এমন পরিস্থিতি তৈরি হল, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
পুর ও নগরোন্নয়ন মন্ত্রী অগ্নিমিত্রা পাল জানিয়েছেন, সংশ্লিষ্ট দপ্তরের বিশেষজ্ঞ ইঞ্জিনিয়ার ও আধিকারিকদের দুর্ঘটনার কারণ অনুসন্ধানের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। রঙের জন্য চালকদের চোখ ধাঁধিয়ে যাওয়ার অভিযোগও খতিয়ে দেখা হবে। মানুষের নিরাপত্তার কথা মাথায় রেখে প্রয়োজন হলে বিকল্প ব্যবস্থার কথাও ভাবা হবে বলে জানিয়েছেন তিনি। এর পরেই উড়ালপুলে রাস্তাকে নিরাপদ করার কাজে নামে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের ইঞ্জিনিয়ারদের দল।
চিংড়িঘাটার ঘটনার পর আসানসোলেও একই ধরনের সতর্কতা। পুজোর আগে শহিদ ভগৎ সিং মোড়ের রাস্তা রং করে সাজানো হয়েছিল। কিন্তু বৃষ্টিতে রাস্তা পিচ্ছিল হয়ে যাওয়ার আশঙ্কায় বুধবার সন্ধ্যায় দেওয়া রং রাতারাতি তুলে দেওয়ার কাজ শুরু হয়। জেলা প্রশাসনের বক্তব্য, সৌন্দর্যায়নের চেয়ে মানুষের নিরাপত্তাই অগ্রাধিকার।
তবে রাস্তা সাজানোর পরিকল্পনা পুরোপুরি বাতিল হচ্ছে না। ভবিষ্যতে বিশেষজ্ঞ ইঞ্জিনিয়ারদের পরামর্শ নিয়ে এমন উপকরণ ব্যবহারের পরিকল্পনা রয়েছে, যাতে বৃষ্টির দিনেও যানবাহনের চাকা রাস্তার উপর যথাযথ গ্রিপ পায়।
উৎসবের শহরকে রঙিন করে তোলার উদ্যোগে এখন তাই নতুন প্রশ্ন সৌন্দর্য বাড়াতে গিয়ে যেন নিরাপত্তার সঙ্গে আপস না হয়। চিংড়িঘাটার ঘটনা সেই সতর্কবার্তাই সামনে আনল।





