আবদুল হাই, বাঁকুড়া: ভোরের আলো ফোটার আগেই বাড়ি থেকে বেরিয়ে পড়েন তাঁরা। হাতে কয়েকটি সামান্য সরঞ্জাম, মনে সামান্য আশার আলো আজ হয়তো ভাগ্য সহায় হবে। বাঁকুড়া জেলার নদী ও খাল সংলগ্ন এলাকায় এভাবেই প্রতিদিন সোনার খোঁজে নামেন একদল শ্রমজীবী মানুষ। দিনের পর দিন, মাসের পর মাস এই সংগ্রামই তাঁদের জীবনের নিত্যদিনের বাস্তবতা।
প্রখর রোদ, ঠান্ডা জল, কাদা আর পাথরের সঙ্গে লড়াই করেই কাটে তাঁদের পুরো দিন। কোমর ব্যথায় নুয়ে আসে, হাত কাঁপতে থাকে ক্লান্তিতে, তবুও থামেন না তাঁরা। কারণ এই খোঁজের সঙ্গে জড়িয়ে রয়েছে পরিবারের একবেলা খাবার, সন্তানদের পড়াশোনার খরচ এবং বেঁচে থাকার শেষ ভরসা। অনেক সময় সকাল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত কঠোর পরিশ্রমের পরেও হাতে আসে কিছুই না ফেরার পথে সঙ্গী হয় শুধুই হতাশা আর অব্যক্ত কান্না।
ক্যামেরায় ধরা পড়া কয়েক মুহূর্তের আড়ালেই থেকে যায় তাঁদের নীরব যন্ত্রণা। ফেটে যাওয়া পা, ক্ষতবিক্ষত হাত কিংবা শরীরজুড়ে জমে থাকা ক্লান্তি চোখে পড়ে না কারও। সন্ধ্যায় বাড়ি ফেরার সময় বুকের গভীরে জমে থাকে অনিশ্চয়তার ভার আগামীকাল আদৌ কিছু মিলবে তো? তবুও পরদিন ভোরে আবার নদীর দিকে পা বাড়ান তাঁরা। থেমে যাওয়ার সুযোগ নেই, কারণ থামলেই থেমে যাবে সংসারের চাকা।
স্থানীয়দের দাবি, এই মানুষগুলির শ্রম ও জীবনসংগ্রাম প্রশাসনের নজরে আসা প্রয়োজন। সুরক্ষা ব্যবস্থা, বিকল্প কর্মসংস্থান ও ন্যূনতম সহায়তা না থাকায় ঝুঁকির মধ্যেই কাজ করতে হচ্ছে তাঁদের। সোনার খোঁজ আসলে শুধু ধাতুর সন্ধান নয়, এটি একটু ভালো জীবন, একটু নিরাপদ ভবিষ্যতের খোঁজ। বাঁকুড়ার এই শ্রমজীবী মানুষের গল্প আজও নিঃশব্দে বলে যায় কতটা কষ্ট আর অদম্য লড়াই নিয়ে তাঁরা প্রতিদিন বেঁচে থাকার চেষ্টা করে চলেছেন।





