কলকাতা, ১৫ অক্টোবরঃ দশভুজা দুর্গার ছবি ঘিরে বিতর্ক এ বার রাজনৈতিক তরজায়। পুজোর আগে রাজ্য সরকারের কয়েকটি বিজ্ঞাপন ও পোস্টারে দুর্গাপ্রতিমার ১১টি হাত দেখা গিয়েছে বলে অভিযোগ। সেই ছবি ঘিরে বিতর্কের আবহে এ বার মুখ খুললেন বিজেপি নেতা দিলীপ ঘোষ। তাঁর কটাক্ষ, “যে ভাবে সরকার কাজ করছে, ১০ হাতে হচ্ছে না। ১১ হাতের দরকার আছে। সেই জন্যই হয়তো হাত বাড়িয়ে দেওয়া হয়েছে।” তবে একই সঙ্গে তাঁর সংযোজন, এটি কোনও শিল্পীর ভুলও হতে পারে। তাই এ বিষয়ে সতর্ক থাকা উচিত।
দুর্গাপুজোর আবহে সরকারি প্রচারসামগ্রীতে দেবীর প্রতিকৃতি নিয়ে এই বিতর্ক রাজনৈতিক মহলে নতুন করে চর্চা শুরু করেছে। দিলীপের বক্তব্যে যেমন কটাক্ষ রয়েছে, তেমনই রয়েছে শিল্পীর ভুলের সম্ভাবনাও। ফলে বিষয়টি নিয়ে মন্তব্য করলেও তিনি সরাসরি কোনও সিদ্ধান্তে পৌঁছননি।
তবে শুধু প্রতিমার হাতের সংখ্যা নয়, এ বারের দুর্গাপুজোর আয়োজন নিয়েও নিজের মত জানিয়েছেন দিলীপ। তাঁর দাবি, এ বার বাংলায় সত্যিকারের দুর্গাপুজোর পরিবেশ তৈরি হয়েছে। আগে মানুষের মন ভোলাতে টাকা দেওয়া হত বলে অভিযোগ করে তিনি বলেন, পালাবদলের পরে রাজ্যে উৎসবের আবহ তৈরি হয়েছে। মহালয়া থেকেই পুজোর বোধন শুরু হয়ে গিয়েছে। শারদোৎসবের আনন্দ ছড়িয়ে পড়েছে শহর থেকে গ্রামে।
পুজোর অনুদান নিয়েও পরিসংখ্যান তুলে ধরেন বিজেপি নেতা। তাঁর বক্তব্য, আগে যেখানে ৪৫ হাজার পুজো অনুদান পেত, এ বার সেখানে ৫৮ হাজার পুজো অনুদানের আওতায় এসেছে। অর্থাৎ, তাঁর দাবি অনুযায়ী, অতিরিক্ত ১২ থেকে ১৩ হাজার পুজো কমিটি এ বার সরকারি অনুদান পেয়েছে।
কলকাতার সাজসজ্জা এবং গ্রামবাংলায় পুজো ঘিরে উৎসাহের কথাও উল্লেখ করেন দিলীপ। তাঁর মতে, বাংলার উৎসবকে বিশ্বের দরবারে তুলে ধরতে শহরজুড়ে সাজসজ্জার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। আগে থেকেই পুজো উদ্বোধন করে মণ্ডপ ঘোরার প্রবণতাও এ বার বেড়েছে বলে মন্তব্য করেন তিনি।
অন্য দিকে, রাস্তার রং ও আলপনা ঘিরে দুর্ঘটনার অভিযোগ প্রসঙ্গেও মুখ খোলেন বিজেপি নেতা। তাঁর বক্তব্য, বৃষ্টির কারণে বাইক পিছলে যেতে পারে, আবার অন্য কারণও থাকতে পারে। বিষয়টি খতিয়ে দেখা প্রয়োজন। সত্যিই রঙের কারণে সমস্যা হলে তা সরিয়ে দেওয়ার কথাও বলেন তিনি।
দুর্গার ১১ হাত ঘিরে বিতর্ক, পুজোর অনুদান এবং শহরের সৌন্দর্যায়ন উৎসবের আবহে এই তিন বিষয়েই এ দিন রাজনৈতিক আলোচনার কেন্দ্রে উঠে এলেন দিলীপ ঘোষ।





