কলকাতা, ৭ অক্টোবরঃ এত দিন আলাদা পরীক্ষা, আলাদা নিয়োগ প্রক্রিয়া। এবার সেই ব্যবস্থায় বদলের পথে রাজ্য। মাদ্রাসায় শিক্ষক নিয়োগের জন্য আর পৃথক মাদ্রাসা সার্ভিস কমিশন নয়, স্কুল সার্ভিস কমিশন বা এসএসসির মাধ্যমেই নিয়োগের পরিকল্পনা নিয়েছে সরকার। ফলে রাজ্যের শিক্ষা ব্যবস্থায় মাদ্রাসা শিক্ষাকে স্কুলশিক্ষার মূল কাঠামোর সঙ্গে আরও সরাসরি যুক্ত করার উদ্যোগ দেখা যাচ্ছে।
মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী জানিয়েছেন, মাদ্রাসা সার্ভিস কমিশন তুলে সেটিকে স্কুল সার্ভিস কমিশনের সঙ্গে যুক্ত করা হয়েছে। সরকারের যুক্তি, শিক্ষক নিয়োগের ক্ষেত্রে পৃথক কাঠামো থাকার বদলে একটি অভিন্ন ব্যবস্থায় এলে নিয়োগ প্রক্রিয়ায় সমতা বজায় রাখা সম্ভব হবে। চাকরিপ্রার্থীদেরও আলাদা করে দুই ধরনের নিয়োগ ব্যবস্থার মধ্যে ঘুরতে হবে না।
তবে সিদ্ধান্তটি কার্যকর করতে এখনও আইনি পথ পেরোতে হবে। মাদ্রাসা সার্ভিস কমিশন সংক্রান্ত পুরনো আইন বাতিল করতে বিধানসভায় বিল আনতে হবে। পাশাপাশি এসএসসির মাধ্যমে মাদ্রাসায় শিক্ষক নিয়োগের ব্যবস্থা করতে সংশ্লিষ্ট আইনে প্রয়োজনীয় সংশোধনও করতে হবে। অর্থাৎ বিধানসভায় বিল পাশ না হওয়া পর্যন্ত নতুন ব্যবস্থা পুরোপুরি কার্যকর হওয়ার সুযোগ নেই।
সরকারের তরফে এই পরিবর্তনের পিছনে আরও একটি যুক্তি রয়েছে আলাদা নিয়োগ কাঠামোর কারণে যে প্রশাসনিক ব্যয় ও জটিলতা তৈরি হয়, তা কমানো। একই কাঠামোয় শিক্ষক নিয়োগ হলে সেই প্রক্রিয়া আরও সরল হবে বলেই মনে করছে সরকার। পাশাপাশি মাদ্রাসার পড়ুয়াদেরও বৃহত্তর শিক্ষা ব্যবস্থার সঙ্গে যুক্ত করার লক্ষ্য রয়েছে বলে জানানো হয়েছে।
কিন্তু সিদ্ধান্ত ঘিরে ইতিমধ্যেই প্রশ্ন উঠেছে। বঙ্গীয় শিক্ষক ও শিক্ষাকর্মী সমিতির সাধারণ সম্পাদক স্বপন মণ্ডল জানিয়েছেন, মাদ্রাসা সার্ভিস কমিশনের পাশাপাশি মাদ্রাসা বোর্ড ও ডিরেক্টরেটকেও স্কুলশিক্ষার মূল স্রোতে আনার সিদ্ধান্তের কথা বলা হচ্ছে। তাঁর বক্তব্য, মাদ্রাসা শিক্ষার উন্নতি এবং পড়ুয়াদের ভবিষ্যৎ নিশ্চিত করার উদ্যোগকে তাঁরা স্বাগত জানাবেন। তবে সরকারের উদ্দেশ্য নিয়ে প্রশ্ন উঠলে আন্দোলনের হুঁশিয়ারিও দিয়েছেন তিনি।
অন্য দিকে বিজেপির রাজ্য সভাপতি শমীক ভট্টাচার্যের দাবি, সংখ্যালঘু পড়ুয়ারাও বিজ্ঞান, অঙ্ক-সহ আধুনিক শিক্ষার পূর্ণ সুযোগ পাবেন। শিক্ষাকে আরও সর্বব্যাপী করার লক্ষ্যেই এই সিদ্ধান্ত বলে তাঁর বক্তব্য।
ফলে সিদ্ধান্ত ঘোষণার পর থেকেই আলোচনায় মাদ্রাসা শিক্ষার ভবিষ্যৎ। এক দিকে নিয়োগ ব্যবস্থায় এক কাঠামো আনার দাবি, অন্য দিকে মাদ্রাসার নিজস্ব প্রশাসনিক কাঠামো নিয়ে উদ্বেগ বিধানসভায় বিল এলে এই দুই অবস্থানের সংঘাত আরও স্পষ্ট হতে পারে।





