মালদা, ২ জানুয়ারিঃ মালদায় এক জনসভা থেকে রাজ্য সরকার ও তৃণমূল কংগ্রেসের বিরুদ্ধে তীব্র ভাষায় আক্রমণ শানালেন বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী। শুরুতেই তিনি বলেন, “বিহার সাফ হয়েছে, এবার বাংলা। কলিঙ্গ অঙ্গ হয়েছে, এবার বঙ্গ।” রাজ্যের বর্তমান পরিস্থিতি নিয়ে কটাক্ষ করে তিনি দাবি করেন, পশ্চিমবঙ্গকে পরিকল্পিতভাবে অস্থিরতার দিকে ঠেলে দেওয়া হচ্ছে।
খগেন মুর্মুর উপর হামলার প্রসঙ্গ তুলে শুভেন্দু বলেন, “এর বদলা নিতে হলে বদল আনতেই হবে।” তিনি মহকুমা শাসকের ভূমিকা নিয়েও ক্ষোভ প্রকাশ করেন এবং অভিযোগ করেন, ধর্মীয় কর্মসূচিতে ইচ্ছাকৃতভাবে বাধা দেওয়া হচ্ছে। লিখিত অনুমতি বাতিল করার ঘটনাকে সামনে রেখে হুঁশিয়ারি দেন, “এপ্রিলের পর সব হিসাব হবে।”
ধুলিয়ান, সামসেরগঞ্জ ও মোথাবাড়ির ঘটনা উল্লেখ করে রাজ্য সরকারকে সহরাবর্দি ও জিন্নার সঙ্গে তুলনা করেন শুভেন্দু। সামসেরগঞ্জে বাবা-ছেলের খুনের প্রসঙ্গ টেনে তিনি দিপু দাসের ঘটনার সঙ্গে তুলনা করেন। পাশাপাশি সিদ্দিকুল্লাহ চৌধুরী ও ফিরহাদ হাকিমের বিরুদ্ধে উস্কানির অভিযোগ তোলেন। চাঁচল মহকুমার চার তৃণমূল বিধায়ককেও নিশানা করেন তিনি।
মালদার ভারতভুক্তির ইতিহাস তুলে ধরে শ্যামাপ্রসাদ মুখার্জি ও প্রণবানন্দজি মহারাজকে স্মরণ করেন শুভেন্দু। তাঁর দাবি, “মালদার মানুষ মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে পছন্দ করে না। তৃণমূল সরকার মালদার সর্বনাশ করেছে।” আবাস যোজনার টাকা লুঠ, পানীয় জলের সংকট, নল থাকলেও জল না পাওয়ার অভিযোগও তোলেন তিনি।
বাংলাদেশি নাগরিকের অভিযোগ ওঠা লাভলি খাতুনের প্রসঙ্গ তুলে শুভেন্দু দাবি করেন, “৫৪ হাজার কোটি টাকা লুঠ হয়ে গেছে।” বিজেপি ক্ষমতায় এলে ২০০ দিনের কাজ, ৩ লক্ষ টাকার আবাস, মেধার ভিত্তিতে চাকরি এবং পরিযায়ী শ্রমিকদের রাজ্যের বাইরে যেতে হবে না এই প্রতিশ্রুতি দেন তিনি।
উত্তর মালদায় হিন্দু-আদিবাসী জোটের কথা উল্লেখ করে শুভেন্দু বলেন, “নন্দীগ্রামে যেমন ৭২ শতাংশ এক হয়েছে, তেমনই উত্তর মালদা গোটা রাজ্যকে পথ দেখাবে।” শেষমেশ হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, “পেটে ভাত, হাতে কাজ, মাথায় ছাদ চাইলে বিজেপিকে আনুন হীরক রাণী বাইবাই।”





