সিকিম, ৮ এপ্রিলঃ উত্তর-পূর্ব হিমালয়ের বিস্তীর্ণ অঞ্চল জুড়ে টানা তুষারপাতে একদিকে তৈরি হয়েছে অপরূপ প্রাকৃতিক দৃশ্য, অন্যদিকে বাড়ছে জনজীবনের দুর্ভোগ। সিকিম-এর উত্তর ও পূর্বাঞ্চলের বহু এলাকা এখন মোটা বরফের আস্তরণে ঢাকা। লাচেন, লাচুং, শেরাথাং, কুপুপ, গ্নাথাং ও সোমগো হ্রদ এলাকায় গত কয়েকদিন ধরে অবিরাম তুষারপাত চলছে। রাস্তা, বাড়িঘর, গাছপালা সবই ঢেকে গেছে সাদা চাদরে, আর তার সঙ্গে পাল্লা দিয়ে নেমেছে তাপমাত্রা।
এই আবহেই সান্দাকফু পর্যটকদের কাছে নতুন করে আকর্ষণের কেন্দ্রবিন্দু হয়ে উঠেছে। সমুদ্রপৃষ্ঠ থেকে প্রায় ৩,৬৩৬ মিটার উচ্চতায় অবস্থিত এই স্থান থেকে একসঙ্গে বিশ্বের চারটি উচ্চতম শৃঙ্গ এভারেস্ট, কাঞ্চনজঙ্ঘা, লোতসে ও মাকালু দেখার বিরল অভিজ্ঞতা মিলছে। বুধবার দুপুর থেকে শুরু হওয়া তুষারপাত শুক্রবার সকাল পর্যন্ত অব্যাহত থাকায় পুরো এলাকা যেন রূপকথার রাজ্যে পরিণত হয়েছে।
তবে এই সৌন্দর্যের আড়ালে লুকিয়ে রয়েছে চরম ভোগান্তি। ভারী তুষারপাতের জেরে একাধিক সড়কপথ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে, বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছে বিভিন্ন পাহাড়ি এলাকা। বিশেষ করে লাচেন অঞ্চলে পরিস্থিতি জটিল হয়ে ওঠে, যেখানে প্রতিকূল আবহাওয়ার কারণে বহু পর্যটক আটকে পড়েন।
এই সংকটময় পরিস্থিতিতে মানবিকতার নজির গড়েছে ভারতীয় সেনাবাহিনী। বর্ডার রোডস অর্গানাইজেশনের সহায়তায় ক্ষতিগ্রস্ত এলাকায় দ্রুত একটি অস্থায়ী ফুটব্রিজ নির্মাণ করা হয়। প্রবল ঠান্ডা ও ঝুঁকিপূর্ণ পরিস্থিতির মধ্যেও সেনাবাহিনীর জওয়ানরা একে একে আটকে পড়া পর্যটকদের নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নিয়ে যান। বিশেষভাবে অগ্রাধিকার দেওয়া হয় বয়স্ক ও অসুস্থদের, যার মধ্যে ছিলেন ৮০ বছর বয়সী এক গুরুতর অসুস্থ ব্যক্তি।
সব মিলিয়ে, সিকিম থেকে সান্দাকফু পর্যন্ত বিস্তৃত এই হিমালয় অঞ্চল এখন একদিকে যেমন সৌন্দর্যের স্বর্গরাজ্য, তেমনই অন্যদিকে মানুষের সাহস, সহমর্মিতা ও লড়াইয়ের এক জীবন্ত উদাহরণ হয়ে উঠেছে।





