আবদুল হাই, বাঁকুড়া: বাঁকুড়ার ইন্দাস ব্লকের করিশুন্ডা অঞ্চলের ভেঁতুলমুড়ি বুথে রাজনৈতিক ক্ষেত্রে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন লক্ষ্য করা গেল। বিজেপি ছেড়ে তৃণমূল কংগ্রেসে যোগ দিলেন ওই এলাকার দশ থেকে বারোজন সক্রিয় কর্মী। মঙ্গলবার আনুষ্ঠানিকভাবে তাঁদের হাতে তৃণমূল কংগ্রেসের পতাকা তুলে দেন ইন্দাস ব্লক তৃণমূল কংগ্রেসের সভাপতি সেখ হামিদ।
দলবদলের পর এক গৃহবধূ নিজের বক্তব্যে জানান, তৃণমূল কংগ্রেস সরকারের আমলে গ্রামের মানুষের জীবনে যে উন্নয়ন এসেছে, তা আর অস্বীকার করার মতো নয়। তাঁর কথায়, “রাস্তা, পানীয় জল, স্বাস্থ্য পরিষেবা থেকে শুরু করে মহিলাদের জন্য বিভিন্ন সামাজিক প্রকল্প সব ক্ষেত্রেই রাজ্য সরকার বাস্তব কাজ করেছে।” বিশেষ করে কন্যাশ্রী, লক্ষ্মীর ভাণ্ডার, স্বনির্ভর গোষ্ঠীর মতো প্রকল্প মহিলাদের আর্থিকভাবে আত্মনির্ভর করে তুলেছে বলেও তিনি উল্লেখ করেন।
বিজেপি ছেড়ে তৃণমূলে যোগদানকারী এক কর্মী বলেন, বিজেপির রাজনীতিতে মানুষের দৈনন্দিন সমস্যা সমাধানের চেয়ে বিভাজনের রাজনীতিই বেশি প্রাধান্য পাচ্ছে। তাঁর অভিযোগ, সাধারণ মানুষের দাবি-দাওয়া বা উন্নয়নের প্রশ্ন সেখানে গুরুত্ব পাচ্ছে না। সেই কারণেই মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের উন্নয়নমূলক রাজনীতিতে আস্থা রেখে তিনি তৃণমূল কংগ্রেসে যোগ দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন।
তৃণমূল কংগ্রেস নেতৃত্বের দাবি, এই যোগদান কোনও একক ঘটনা নয়। এদিন দশ থেকে বারোজন সক্রিয় কর্মী বিজেপি ছেড়ে তৃণমূলে যোগ দিয়েছেন, যাঁদের অনেকেই দীর্ঘদিন ধরে এলাকায় রাজনৈতিক ও সাংগঠনিক কাজের সঙ্গে যুক্ত ছিলেন। ফলে ভেঁতুলমুড়ি বুথে তৃণমূল কংগ্রেসের সংগঠন আরও শক্তিশালী হল বলে মনে করছেন দলের কর্মী-সমর্থকরা।
স্থানীয় তৃণমূল নেতৃত্বের মতে, উন্নয়নই তাঁদের রাজনীতির মূল ভিত্তি। মানুষের জীবনযাত্রার মানোন্নয়নের ধারাবাহিকতাতেই সাধারণ মানুষ স্বতঃস্ফূর্তভাবে তৃণমূল কংগ্রেসের দিকে এগিয়ে আসছেন। করিশুন্ডা অঞ্চলে বিজেপি ছেড়ে তৃণমূলে একাধিক কর্মীর যোগদান সেই বাস্তবতারই স্পষ্ট প্রতিফলন বলে দাবি করা হয়েছে।





