খবরিয়া ২৪ ডেস্ক, ২২ জানুয়ারিঃ ধারাবাহিকের চিত্রনাট্যকেও যেন হার মানাচ্ছে বিজেপির তারকা বিধায়ক ও অভিনেতা হিরণ চট্টোপাধ্যায়ের ব্যক্তিজীবন। প্রথম স্ত্রীর সঙ্গে আইনি বিচ্ছেদ না করেই দ্বিতীয়বার বিয়ে করার অভিযোগ ঘিরে এখন সরগরম বিনোদন থেকে রাজনীতির ময়দান। ওয়াকিবহাল মহলের দাবি, হিন্দু ম্যারেজ অ্যাক্ট ১৯৫৫ অনুযায়ী এই ধরনের দ্বিতীয় বিয়ে আইনত অপরাধ, যার জেরে অভিযুক্তের এক বছর পর্যন্ত কারাদণ্ড হতে পারে। ফলে হিরণের ‘দ্বিতীয় বিবাহ অভিযান’ এখন শুধুই গসিপ নয়, আইনি ও রাজনৈতিক বিতর্কের কেন্দ্রবিন্দুতে।
এই বিতর্কে নতুন করে ঘৃতাহূতি দিয়েছে হিরণের প্রথম পক্ষের স্ত্রী অনিন্দিতা চট্টোপাধ্যায়ের মন্তব্য। তাঁর বক্তব্য সামনে আসতেই প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে, আইনবিরুদ্ধ এই ঘটনায় বিজেপির অবস্থান কী? দলের অন্দরমহল থেকে শুরু করে বিরোধী শিবির সব মহলেই শুরু হয়েছে জোর চর্চা।
এই পরিস্থিতিতে মুখ খুললেন বিজেপির প্রবীণ নেতা দিলীপ ঘোষ। উল্লেখযোগ্যভাবে, খড়্গপুরে হিরণ চট্টোপাধ্যায়ের রাজনৈতিক উত্থানের নেপথ্যে দিলীপ ঘোষের ভূমিকা ছিল বলেই রাজনৈতিক মহলের একাংশের মত। একুশের বিধানসভা নির্বাচনে তাঁর হাত ধরেই হিরণ বিজেপির বিধায়ক হিসেবে আত্মপ্রকাশ করেন। তাই এই সংবেদনশীল বিষয়ে দিলীপ কী বলেন, সেদিকেই নজর ছিল সবার।
সংবাদমাধ্যমের প্রশ্নে দিলীপ ঘোষ সাফ জানিয়ে দেন, “কে কাকে বিয়ে করবে, কীভাবে জীবনযাপন করবে, সেটা সম্পূর্ণ তাঁর ব্যক্তিগত বিষয়।” এই মন্তব্যে স্পষ্ট, বিতর্কে জড়াতে একেবারেই আগ্রহী নন তিনি। একই সঙ্গে দলকেও এই বিতর্ক থেকে দূরে রাখার চেষ্টা বলেই মনে করছে রাজনৈতিক মহল।
অন্যদিকে, হিরণের দ্বিতীয় বিয়ে নিয়ে তৃণমূল কংগ্রেসের কর্মী-সমর্থকরা সোশ্যাল মিডিয়ায় ট্রোল ও মিমে মেতে উঠেছেন। কেউ হিন্দু ম্যারেজ অ্যাক্টের কথা মনে করিয়ে কটাক্ষ করেছেন, আবার কেউ পরিবারকে অন্ধকারে রেখে দ্বিতীয়বার সাতপাকে বাঁধা পড়ার অভিযোগ তুলেছেন। সব মিলিয়ে হিরণ চট্টোপাধ্যায়ের ব্যক্তিগত সিদ্ধান্ত এখন গেরুয়া শিবিরের জন্য অস্বস্তির কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে।





