হাওড়া, ২৯ সেপ্টেম্বরঃ নীল-সাদা সাইকেলের জায়গায় গেরুয়া। ‘সবুজসাথী’র বদলে ‘সারথি’। আর নবম নয়, এবার অষ্টম শ্রেণি থেকেই পড়ুয়াদের হাতে পৌঁছবে সাইকেল। সরকার বদলের সঙ্গে বদলেছে প্রকল্পের নাম, রং এবং নকশা। মঙ্গলবার হাওড়ার ব্যাঁটরার মধুসূদন পাল চৌধুরী হাইস্কুল থেকে আনুষ্ঠানিক ভাবে ‘সারথি’ প্রকল্পের সূচনা করলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী।
নতুন সরকারের দাবি, শুধু নাম বা লোগো বদল নয়, সাইকেলের গুণমানেও জোর দেওয়া হয়েছে। মুখ্যমন্ত্রীর কথায়, সাইকেলে উপযুক্ত আলো ও উন্নত মানের টায়ারের ব্যবস্থা করা হয়েছে। মান যাচাইয়ের ব্যবস্থাও থাকছে। রাজ্য সরকারের হিসাবে, নতুন প্রকল্পে প্রায় ১২.৫৯ লক্ষ পড়ুয়া উপকৃত হবে।
‘সবুজসাথী’ প্রকল্পে মূলত নবম শ্রেণির পড়ুয়াদের সাইকেল দেওয়া হত। নতুন ‘সারথি’য় সেই সুবিধা অষ্টম শ্রেণিতেই পৌঁছে দেওয়ার কথা জানিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী। ফলে স্কুলপড়ুয়াদের যাতায়াতের ক্ষেত্রে এক বছর আগেই সরকারি সহায়তা মিলবে। পুরনো প্রকল্পের উদ্দেশ্য ছিল পড়ুয়াদের স্কুলে যাতায়াত সহজ করা এবং পড়াশোনা চালিয়ে যেতে উৎসাহ দেওয়া।
তবে প্রকল্পের বদলের সঙ্গে জড়িয়ে রয়েছে রাজনৈতিক বার্তাও। আগের সরকারের আমলের বিভিন্ন সামাজিক প্রকল্প নিয়ে দুর্নীতির অভিযোগের প্রসঙ্গ তুলে নতুন সরকার বারবার নাম, ব্র্যান্ডিং এবং বাস্তবায়ন পদ্ধতিতে পরিবর্তনের কথা বলেছে। ‘সবুজসাথী’ থেকে ‘সারথি’ সেই বদলেরই অন্যতম দৃশ্যমান উদাহরণ।
হাওড়ার অনুষ্ঠান থেকে পূর্বতন ব্যবস্থাকে নিশানা করে শুভেন্দু বলেন, আগে বাইরে থেকে যন্ত্রাংশ এনে এখানে সাইকেল তৈরি করা হত। তাঁর দাবি, এবার রাজ্যেই সাইকেল তৈরির পরিকাঠামো গড়ে তোলা হবে। সাইকেল কারখানার জন্য জমি দেওয়ার কথাও জানান তিনি।
প্রকল্পের আনুষ্ঠানিক সূচনার পর অবশ্য রাজনীতির বাইরেও অন্য ছবি ধরা পড়ে। স্কুলপড়ুয়াদের সঙ্গে একই টেবিলে বসে মধ্যাহ্নভোজ সারলেন মুখ্যমন্ত্রী। একদিকে নতুন প্রকল্পের সূচনা, অন্যদিকে পড়ুয়াদের সঙ্গে একসঙ্গে খাওয়া সরকারি অনুষ্ঠানের মঞ্চ ছেড়ে এ দিন অনেকটাই স্কুলের পরিবেশে মিশে গেলেন মুখ্যমন্ত্রী।





