কলকাতা, ২৯ সেপ্টেম্বরঃ ভোটের ময়দানে নামার পথ আপাতত খুলল নন্দীগ্রামের কংগ্রেস প্রার্থী মিলন প্রধানের। ৬ অক্টোবরের উপনির্বাচনের আগে কলকাতা হাই কোর্টের নির্দেশে অন্তর্বর্তী জামিন পেলেন তিনি। ফলে জেল থেকে বেরিয়ে প্রচারে অংশ নিতে পারবেন মিলন। মঙ্গলবার বিচারপতি তীর্থঙ্কর ঘোষ তাঁর বিরুদ্ধে থাকা ছ’টি মামলাতেই অন্তর্বর্তী জামিন মঞ্জুর করেছেন। তবে সেই জামিন একাধিক শর্তসাপেক্ষ।
আদালতের নির্দেশ অনুযায়ী, আগামী ২০ অক্টোবর পর্যন্ত জামিনে থাকবেন মিলন। তাঁকে ২০ হাজার টাকার বন্ড দিতে হবে। তদন্তে নিয়মিত সহযোগিতা করার পাশাপাশি প্রতিদিন দু’বার পুলিশকে ফোনে যোগাযোগ করতে হবে বলেও আদালত নির্দেশ দিয়েছে। জামিনের মেয়াদ শেষ হলে ২১ অক্টোবর আদালতে আত্মসমর্পণ করতে হবে তাঁকে।
মিলনের বিরুদ্ধে থাকা মামলাগুলির শিকড় ২০০৭ সালের নন্দীগ্রাম আন্দোলনপর্বে। পুলিশ সূত্রে তাঁর বিরুদ্ধে খুন, খুনের চেষ্টা, জমায়েত এবং লুটপাটের মতো অভিযোগে মামলা থাকার কথা সামনে এসেছে। পুরনো মামলায় গ্রেফতারির পর থেকেই ভোটের আগে তাঁর প্রচারে নামা নিয়ে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছিল। ৬ অক্টোবর ভোট, তার আগে ৪ অক্টোবর পর্যন্ত প্রচারপর্ব। ফলে আদালতের মঙ্গলবারের নির্দেশে সেই অনিশ্চয়তা আপাতত কাটল।
মিলনের জামিনের আবেদন ঘিরে গত কয়েক দিন ধরে হাই কোর্টে টানাপোড়েন চলছিল। এর আগে বিচারপতি তীর্থঙ্কর ঘোষের পর্যবেক্ষণে নির্বাচনে অংশ নেওয়ার সুযোগ দেওয়ার কথা উঠে এসেছিল। তবে বিভিন্ন মামলার শুনানি একসঙ্গে চলায় চূড়ান্ত নির্দেশ পেতে সময় লাগে। সোমবারও শুনানি পিছিয়ে যাওয়ার পরে মঙ্গলবার সকালে অন্তর্বর্তী জামিনের নির্দেশ দেয় আদালত।
এ দিকে মিলনের জেলবন্দি থাকা অবস্থায় তাঁর স্ত্রী অর্পিতা প্রধানকে সামনে রেখে নন্দীগ্রামে প্রচারের প্রস্তুতি নিয়েছিল কংগ্রেস। জামিনের খবর প্রকাশ্যে আসার পর দলের অন্দরে স্বস্তি ফিরেছে। প্রদেশ কংগ্রেস সভাপতি শুভঙ্কর সরকার আদালতের নির্দেশকে স্বাগত জানিয়েছেন। মিলনের পরিবারের তরফেও স্বস্তির কথা জানানো হয়েছে।
এখন নজর একটাই জেল থেকে বেরিয়ে নন্দীগ্রামের ভোটের ময়দানে কবে নামছেন কংগ্রেস প্রার্থী। সময় অবশ্য বেশি নেই। ভোটের আগে হাতে মাত্র কয়েক দিনের প্রচারপর্ব। সেই সময়টুকুই কাজে লাগাতে হবে মিলনকে।





