দিল্লি, ২৪ সেপ্টেম্বরঃ নির্বাচন কমিশনের অন্দরের মতপার্থক্য নিয়ে যখন মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারকে ঘিরে রাজনৈতিক চাপানউতোর চলছে, ঠিক সেই সময় তাঁর কন্যা তথা নয়ডার জেলাশাসক মেধা রূপমের মামলায় সুপ্রিম কোর্টের অন্তর্বর্তী নির্দেশ। আপাতত এলাহাবাদ হাই কোর্টের সেই নির্দেশ কার্যকর হচ্ছে না, যাতে মেধার বেতন থেকে পাঁচ লক্ষ টাকা কেটে দিল্লি বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রী আকৃতি চৌধুরীকে ক্ষতিপূরণ দেওয়ার কথা বলা হয়েছিল।
ঘটনার সূত্রপাত নয়ডার শ্রমিক বিক্ষোভকে কেন্দ্র করে। ওই বিক্ষোভের সঙ্গে যুক্ত থাকার অভিযোগে আকৃতি চৌধুরীর বিরুদ্ধে জাতীয় নিরাপত্তা আইন বা NSA প্রয়োগ করা হয়েছিল। প্রায় পাঁচ মাস হেফাজতে থাকার পর গত ২ সেপ্টেম্বর আকৃতির আটকাদেশ বাতিল করে এলাহাবাদ হাই কোর্ট। একই সঙ্গে আটক প্রক্রিয়ায় প্রশাসনিক ভূমিকা নিয়ে তীব্র পর্যবেক্ষণ করে আদালত এবং পাঁচ লক্ষ টাকা ক্ষতিপূরণের নির্দেশ দেয়। ওই অর্থ মেধা রূপম-সহ আটক প্রক্রিয়ার সঙ্গে যুক্ত আধিকারিকদের বেতন থেকে আদায়ের কথা বলা হয়েছিল।
হাই কোর্টের সেই রায়কে চ্যালেঞ্জ করেই সুপ্রিম কোর্টে যান মেধা। বুধবার বিচারপতি সতীশচন্দ্র শর্মা এবং বিচারপতি এন কে সিংহের বেঞ্চে শুনানি হয়। সেখানে মেধার পক্ষে সলিসিটর জেনারেল তুষার মেহতা যুক্তি দেন, NSA-তে আটক করার সিদ্ধান্ত কোনও একক আধিকারিকের হাতে সম্পূর্ণ নির্ভরশীল নয়। প্রশাসনিক প্রক্রিয়ায় একাধিক স্তর থাকে।
শীর্ষ আদালতও প্রশ্ন তোলে, যদি আটক করার প্রক্রিয়ায় একাধিক আধিকারিক ও কর্তৃপক্ষ যুক্ত থাকেন, তা হলে শুধু জেলাশাসককেই কী ভাবে আলাদা করে দায়ী করা যায়? এর পরেই এলাহাবাদ হাই কোর্টের রায়ের সংশ্লিষ্ট অংশে অন্তর্বর্তী স্থগিতাদেশ দেওয়া হয়। মামলাটি ফের ৭ অক্টোবর শুনবে সুপ্রিম কোর্ট।
অর্থাৎ, এই মুহূর্তে মেধার বেতন থেকে পাঁচ লক্ষ টাকা আদায়ের নির্দেশ স্থগিত। তবে আকৃতির NSA-তে আটক নিয়ে হাই কোর্টের মূল সিদ্ধান্ত এবং প্রশাসনিক দায়ের প্রশ্নের চূড়ান্ত নিষ্পত্তি এখনও হয়নি। ফলে বুধবারের নির্দেশে আপাতত স্বস্তি এলেও আইনি লড়াইয়ের শেষ অধ্যায় এখনও বাকি।






