নয়াদিল্লী, ১৪ অক্টোবরঃ ভোটার তালিকার নিবিড় সংশোধন বা এসআইআর ঘিরে রাজনৈতিক সংঘাত ক্রমেই তীব্র হচ্ছে। ‘ভোটচুরি’র অভিযোগ তুলে কংগ্রেস-সহ বিরোধীরা যখন দিল্লিতে প্রতিবাদে নেমেছে, তখন পাল্টা আক্রমণে সরব কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ। তাঁর নিশানায় লোকসভার বিরোধী দলনেতা রাহুল গান্ধী। কংগ্রেসের ধারাবাহিক নির্বাচনী বিপর্যয়ের জন্য রাহুলকেই দায়ী করে শাহের কটাক্ষ, ২০২৯ সালের লোকসভা নির্বাচনেও পরাজয়ের জন্য প্রস্তুত থাকতে হবে কংগ্রেসকে।
মঙ্গলবার দিল্লিতে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে এসআইআর বিতর্কে বিরোধীদের অবস্থান নিয়ে প্রশ্ন তোলেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী। তাঁর দাবি, এসআইআর প্রক্রিয়া ২০২৪ সালের পরে শুরু হলেও কংগ্রেসের নির্বাচনী ব্যর্থতার ধারা তার অনেক আগে থেকেই চলছে। রাহুল গান্ধী রাজনীতিতে আসার পর থেকে দলটি একের পর এক নির্বাচনে হেরেছে বলেও দাবি করেন তিনি। শাহের বক্তব্য, এসআইআরের বিরোধিতার আড়ালে অনুপ্রবেশকারীদের রক্ষা করার চেষ্টা করছেন বিরোধীরা।
রাহুলকে সরাসরি নিশানা করে শাহ বলেন, এসআইআরের বিরোধিতা করে অনুপ্রবেশকারীদের আড়াল করার যে কৌশল নেওয়া হয়েছে, তা দেশের মানুষ বুঝে গিয়েছেন। তাঁর দাবি, ভোটাররা এই কৌশলে বিভ্রান্ত হবেন না। সেই সঙ্গেই ২০২৯ সালের লোকসভা নির্বাচনেও কংগ্রেসের পরাজয়ের সম্ভাবনা নিয়ে কটাক্ষ করেন তিনি। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর এই মন্তব্য ঘিরে এসআইআর বিতর্কে রাজনৈতিক চাপানউতোর আরও বাড়ার ইঙ্গিত স্পষ্ট।
এদিন রাহুলকে আক্রমণ করতে গুজরাটের পুরসভা নির্বাচনের ফলকেও হাতিয়ার করেন শাহ। তাঁর বক্তব্য, গান্ধীনগর-সহ তিনটি পুরসভায় বিজেপির জয় ভোটারদের মনোভাবের প্রতিফলন। গান্ধীনগর পুরসভার ৪৪টি আসনের মধ্যে বিজেপি ৩৮টি এবং কংগ্রেস পাঁচটি আসন পেয়েছে বলে উল্লেখ করেন তিনি। আম আদমি পার্টি কোনও আসনেই জিততে পারেনি বলেও দাবি করা হয়েছে।
শাহের মতে, গত নির্বাচনের তুলনায় গান্ধীনগর পুরসভায় বিজেপির ভোটের হার ১০ শতাংশ বেড়েছে। পাশাপাশি, গত ৪১ বছরে ওই পুরসভায় কংগ্রেস কোনও নির্বাচনে জিততে পারেনি বলেও দাবি করেন তিনি। এই ফলকে নরেন্দ্র মোদীর প্রতি গুজরাট তথা দেশের ভোটারদের সমর্থনের প্রমাণ হিসেবে তুলে ধরেছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী।
একদিকে ভোটার তালিকা সংশোধন নিয়ে বিরোধীদের অভিযোগ, অন্যদিকে সেই অভিযোগের জবাবে বিজেপির পাল্টা আক্রমণ এসআইআর ঘিরে রাজনৈতিক লড়াই এখন আর প্রশাসনিক প্রক্রিয়ার মধ্যে সীমাবদ্ধ নেই। তা ক্রমেই পরিণত হচ্ছে ২০২৯ সালের লোকসভা নির্বাচনকে সামনে রেখে আগাম রাজনৈতিক শক্তি প্রদর্শনের মঞ্চে।





