কোচবিহার, ৩০ আগস্টঃ জন্মদিন মানেই নিজের জন্য শুভেচ্ছা, উদ্যাপন আর আনন্দের মুহূর্ত। কিন্তু ৬৫তম জন্মদিনে সেই চেনা ছবিটাই বদলে দিলেন বিধানসভা স্পিকার তথা কোচবিহার দক্ষিণের বিধায়ক রথীন্দ্র বোস। কেক কিংবা আড়ম্বরের বদলে তাঁর জন্মদিনে সামনে এল অন্য এক ছবি-নিজের হাতে সাফাইকর্মী ও বিভিন্ন বিভাগের কর্মীদের পা ধুইয়ে দিলেন তিনি। সম্মান জানালেন তাঁদের শ্রমকে। মুহূর্তেই আবেগঘন হয়ে উঠল গোটা পরিবেশ।
কোচবিহারের মদনমোহন বাড়ির সম্মুখে বৈরাগী দিঘিতে এদিন অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা গঙ্গা আরতির। ধর্মীয় আবহে সাজতে শুরু করেছে এলাকা। সেই বিশেষ আয়োজনের দিনেই নিজের জন্মদিনকে সাধারণ মানুষের সঙ্গে ভাগ করে নেওয়ার উদ্যোগ নেন রথীন্দ্র। পৌরসভার সাফাইকর্মী-সহ বিভিন্ন বিভাগের কর্মীদের আমন্ত্রণ জানিয়ে তাঁদের সম্মানিত করেন তিনি। শুধু ফুল বা উত্তরীয় দিয়ে সম্মান নয়, তাঁদের পা নিজের হাতে ধুইয়ে দেন স্পিকার।
হঠাৎ এমন সম্মানে কিছুটা বিস্মিত কর্মীরা। পরে আবেগ সামলাতে পারেননি অনেকেই। কারণ শহরের ঝকঝকে রাস্তা, পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন পরিবেশ কিংবা নাগরিক পরিষেবার পিছনে যাঁদের শ্রম থাকে, তাঁদের উপস্থিতি অনেক সময়ই থেকে যায় আড়ালে। ভোরের আলো ফোটার আগেই যাঁরা কাজে বেরিয়ে পড়েন, শহরকে পরিচ্ছন্ন রাখতে যাঁদের নিরলস পরিশ্রম-জন্মদিনে তাঁদেরই সামনে এনে সম্মান জানালেন স্পিকার।
এই পা ধোওয়ার আচার তাই নিছক কোনও আনুষ্ঠানিকতা নয়-উদ্যোক্তাদের মতে, এর মধ্যে রয়েছে শ্রমের মর্যাদার প্রতি শ্রদ্ধা। সমাজে কাজের ছোট-বড় ভেদাভেদ ভুলে যাঁরা প্রতিদিন নাগরিক পরিষেবাকে সচল রাখেন, তাঁদের অবদানকে প্রকাশ্যে স্বীকৃতি দেওয়ার বার্তাই যেন উঠে এল এই উদ্যোগে।
আর তার সঙ্গে মিশে গেল গঙ্গা আরতির আধ্যাত্মিক আবহ। এক দিকে মদনমোহনের ঐতিহ্য, অন্য দিকে বৈরাগী দিঘির পাড়ে ধর্মীয় আচার। তার মাঝেই মানুষের প্রতি শ্রদ্ধা ও মানবিকতার এক অন্য ভাষা লিখল জন্মদিনের এই আয়োজন।
রাজনীতি ও প্রশাসনের ব্যস্ততার বাইরে ৬৫তম জন্মদিনে রথীন্দ্রের এই উদ্যোগ যেন মনে করিয়ে দিল-সম্মান শুধু মঞ্চে বসিয়ে দেওয়া হয় না, কখনও কখনও তা প্রকাশ পায় মাথা নত করেও। গঙ্গা আরতির পবিত্র আবহে তাই এদিন কোচবিহার দেখল অন্য এক আরতি-শ্রমের প্রতি শ্রদ্ধা, মানুষের প্রতি সম্মান আর মানবিকতার আলোয় আলোকিত এক জন্মদিন।






