নয়াদিল্লি, ৬ আগস্টঃ সংসদ অভিযান ঘিরে ছাত্র-আন্দোলনের জেরে দেশজুড়ে যে বিতর্ক তৈরি হয়েছে, তার মধ্যেই গুরুত্বপূর্ণ পর্যবেক্ষণ করল সুপ্রিম কোর্ট। পুলিশের উপর হামলার অভিযোগ কিংবা আন্দোলনকারীদের বিরুদ্ধে বলপ্রয়োগ দুই দিকের অভিযোগই আদালতের নজরে। তবে পরিস্থিতি সামাল দিতে রাষ্ট্রকে সংযমী হওয়ার বার্তা দিয়ে শীর্ষ আদালতের পর্যবেক্ষণ, তরুণদের কথা আগে শুনতে হবে, প্রয়োজনে তাঁদের বোঝাতে হবে; বলপ্রয়োগে পরিস্থিতি আরও জটিল হতে পারে।
২০ জুলাই সংসদ অভিযানের সময় ছাত্র-ছাত্রীদের মিছিলকে কেন্দ্র করে পুলিশের বিরুদ্ধে অতিরিক্ত বলপ্রয়োগের অভিযোগ ওঠে। একই সঙ্গে আন্দোলনকারীদের একাংশের বিরুদ্ধে পুলিশকে লক্ষ্য করে পাথর ছোড়ার অভিযোগও সামনে আসে। এই ঘটনার জেরে একাধিক মামলা পৌঁছেছে সুপ্রিম কোর্টে।
এরই মধ্যে মণীশকুমার সোলাঙ্কি নামে এক আবেদনকারী আদালতে আর্জি জানিয়েছেন, আন্দোলনের আয়োজকদের বিরুদ্ধে আইনি পদক্ষেপ করা হোক এবং বিক্ষোভকারী ছাত্রদের বিরুদ্ধে দায়ের হওয়া মামলাগুলি যেন কোনওভাবেই প্রত্যাহার করা না হয়। তাঁর দাবি, তা হলে ভবিষ্যতের জন্য ভুল বার্তা যাবে। আবেদনে তিনি বলেন, “এখন জেন-জি আন্দোলন করছে। আগামী দিনে জেনারেশন আলফা, বিটা, ডেলটাও আসবে।” সুপ্রিম কোর্ট সেই আবেদন গ্রহণ করেছে এবং ছাত্রবিক্ষোভ সংক্রান্ত অন্যান্য মামলার সঙ্গেই সেটির শুনানি হবে।
বুধবার প্রধান বিচারপতি সূর্য কান্ত, বিচারপতি জয়মাল্য বাগচী এবং বিচারপতি ভি. মোহনের বেঞ্চ শুনানিতে জানায়, যদি কোনও তরুণ উত্তেজনার বশে পাথরও ছুড়ে থাকে, তবুও তার অর্থ এই নয় যে কেবল শক্তি প্রয়োগই একমাত্র পথ। আদালতের পর্যবেক্ষণ, “ওঁরা তরুণ। ওঁদের কাউন্সেলিং করা দরকার, সঠিক পরামর্শ দেওয়া দরকার। রাষ্ট্রের শক্তি দেখাতে গিয়ে বলপ্রয়োগ করলে পরিস্থিতি আরও খারাপ হতে পারে।”
একই সঙ্গে আদালত স্পষ্ট করেছে, আইনশৃঙ্খলা রক্ষা এবং পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখার চূড়ান্ত দায়িত্ব পুলিশেরই। সেই সিদ্ধান্ত বাহিনী তাদের অভিজ্ঞতা ও দক্ষতা অনুযায়ী নেবে। তবে আদালতের পরামর্শ, উত্তেজনাপূর্ণ পরিস্থিতিতে সংযমই হওয়া উচিত প্রশাসনের সবচেয়ে বড় অস্ত্র। প্রতিবাদের কারণ বোঝার চেষ্টা এবং আলোচনার পথ খোলা রাখাই দীর্ঘমেয়াদে সবচেয়ে কার্যকর সমাধান হতে পারে বলেই ইঙ্গিত দিয়েছে দেশের সর্বোচ্চ আদালত।





