নয়াদিল্লী, ১৩ অক্টোবরঃ কলকাতা হাই কোর্টের পর এ বার সুপ্রিম কোর্টেও ধাক্কা প্রশান্ত বর্মনের। স্বর্ণ ব্যবসায়ী অপহরণ ও খুনের মামলায় অভিযুক্ত রাজগঞ্জের অপসারিত বিডিওকে হাই কোর্টের নির্দেশ মেনে আত্মসমর্পণ করতে হবে। মঙ্গলবার বিচারপতি অরবিন্দ কুমার এবং বিচারপতি বিপুল এম পাঞ্চেলের বেঞ্চে প্রশান্তের দায়ের করা মামলার শুনানি হয়। হাই কোর্টের নির্দেশে হস্তক্ষেপ না করে আবেদন খারিজ করে দেয় শীর্ষ আদালত।
শুনানিতে প্রশান্তের দীর্ঘদিন আত্মগোপনে থাকা এবং আদালতের নির্দেশ না মানার বিষয়টি নিয়ে প্রশ্ন তোলেন বিচারপতিরা। তাঁদের পর্যবেক্ষণ, “পুরো সিস্টেমকে একজন উপহাস করে রেখে দিয়েছেন। আদালত এর আগেও নির্দেশ দিয়েছিল। তা মানেননি। কীভাবে এমন হতে পারে? পুরো বিষয়ে আমরা অবাক।”
গত বৃহস্পতিবারের মধ্যে প্রশান্তকে আত্মসমর্পণ করার নির্দেশ দিয়েছিল কলকাতা হাই কোর্ট। নির্দেশ না মানলে তাঁর সম্পত্তি বাজেয়াপ্ত করার পদক্ষেপের কথাও বলা হয়েছিল। সেই নির্দেশকে চ্যালেঞ্জ করেই সুপ্রিম কোর্টের দ্বারস্থ হন তিনি। কিন্তু শীর্ষ আদালতেও স্বস্তি না মেলায় এখন তাঁর পরবর্তী পদক্ষেপের দিকে নজর রয়েছে।
শুধু প্রশান্ত নন, এ দিন রাজ্যের ভূমিকাও আদালতের প্রশ্নের মুখে পড়ে। হাই কোর্টের নির্দেশ কার্যকর করতে কেন পদক্ষেপ করা হয়নি, তা নিয়ে প্রশ্ন তোলেন বিচারপতিরা। রাজ্যকে স্পষ্ট বার্তা দিয়ে আদালত বলে, “আপনারা কী করছেন? হাই কোর্টের নির্দেশ মেনে এখনই পদক্ষেপ করুন।” ফলে প্রশান্তের আত্মসমর্পণের পাশাপাশি আদালতের নির্দেশ কার্যকর করতে প্রশাসন কী ব্যবস্থা নেয়, তা-ও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে।
প্রশান্তের বিরুদ্ধে সল্টলেকের এক স্বর্ণ ব্যবসায়ীকে অপহরণ ও খুনের মামলায় জড়িত থাকার অভিযোগ রয়েছে। সেই মামলায় দীর্ঘদিন ধরেই তাঁর হদিশ মিলছে না বলে দাবি। এর আগে রাজারহাট-নিউটাউন এলাকায় গাড়ির ধাক্কা এবং পরবর্তী সময়ে রাস্তায় বচসা ও বিশৃঙ্খলা সৃষ্টির অভিযোগেও তাঁর নাম জড়িয়েছিল। ওই ঘটনায় গ্রেপ্তারির পর জামিনে মুক্ত হয়ে তিনি ফের আত্মগোপন করেন বলে অভিযোগ।
তবে মামলার অভিযোগ ও আদালতের পর্যবেক্ষণের বাইরে প্রশান্তের বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগগুলির চূড়ান্ত বিচার এখনও পৃথক বিষয়। আপাতত সুপ্রিম কোর্টে আবেদন খারিজ হওয়ায় কলকাতা হাই কোর্টের নির্দেশ মেনেই তাঁকে আত্মসমর্পণ করতে হবে।





