নন্দীগ্রাম, ৯ অক্টোবরঃ বাংলার রাজনীতিতে সংখ্যালঘু ভোট বরাবরই গুরুত্বপূর্ণ নির্ধারক। সেই ভোটের গতিপথে সামান্য পরিবর্তনও বদলে দিতে পারে নির্বাচনী সমীকরণ। নন্দীগ্রাম ও রেজিনগরের উপনির্বাচন ঘিরে সামনে আসা প্রবণতা অন্তত তেমনই এক নতুন রাজনৈতিক আলোচনার জন্ম দিয়েছে। যে সংখ্যালঘু ভোটকে দীর্ঘদিন ধরে তৃণমূলের অন্যতম শক্তি বলে মনে করা হত, সেই ভোটের একাংশে এ বার বিজেপির দিকে ঝোঁকার ইঙ্গিত মিলছে বলে দাবি রাজনৈতিক মহলের একাংশের।
ছাব্বিশের নির্বাচনে রাজ্যের একাধিক অঞ্চলে ভোটের সমীকরণে পরিবর্তনের যে ছবি দেখা গিয়েছিল, উপনির্বাচনের প্রাথমিক প্রবণতাতেও তার প্রতিফলন রয়েছে বলে মনে করা হচ্ছে। বিশেষ করে নন্দীগ্রামের সংখ্যালঘু অধ্যুষিত বুথগুলিতে বিজেপির এগিয়ে থাকার দাবি ঘিরে শুরু হয়েছে চর্চা। তবে এই প্রবণতা কতটা বিস্তৃত এবং এর পিছনে কোন কোন সামাজিক ও রাজনৈতিক কারণ কাজ করছে, তা বুঝতে চূড়ান্ত ফল ও বুথভিত্তিক তথ্য বিশ্লেষণ জরুরি।
নির্বাচনের আগে নন্দীগ্রামে দাঁড়িয়ে শুভেন্দু অধিকারী সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের কাছে ‘ডাবল ইঞ্জিন’ সরকারের পক্ষে থাকার আহ্বান জানিয়েছিলেন। প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর উন্নয়নের ধারায় সামিল হওয়ার বার্তাও দিয়েছিলেন তিনি। সেই আহ্বানে সাড়া মিলেছে কি না, তা নিয়ে এখন রাজনৈতিক মহলে জোর আলোচনা।
অন্য দিকে, কয়েকটি সংখ্যালঘু বুথে কংগ্রেসের তুলনায় তৃণমূলের প্রাপ্ত ভোট কম হওয়ার যে দাবি সামনে এসেছে, তা শাসক শিবিরের জন্য অস্বস্তির কারণ হতে পারে। কোথাও কংগ্রেসের ঝুলিতে ৭০ থেকে ১০০ ভোট পড়লেও তৃণমূলের দুই গোষ্ঠীর প্রাপ্তি আট-দশের আশপাশে, এমনকী কোথাও আরও কম এমনই দাবি করা হচ্ছে।
এই পরিস্থিতির পিছনে কি শুধুই রাজনৈতিক নেতৃত্বের প্রতি আস্থার পরিবর্তন, নাকি স্থানীয় ক্ষোভ, উন্নয়নের প্রত্যাশা এবং বিরোধী ভোটের পুনর্বিন্যাসও কাজ করছে? উত্তর খুঁজতে হবে সেই প্রশ্নের মধ্যেই।
মালদহ ও মুর্শিদাবাদে তৃণমূলের ভোটব্যাঙ্কে বিজেপির অগ্রগতির যে আলোচনা আগে থেকেই রয়েছে, নন্দীগ্রামের সাম্প্রতিক প্রবণতা তাতে নতুন মাত্রা যোগ করেছে। তবে একটি উপনির্বাচনের ফল দিয়ে গোটা বাংলার সংখ্যালঘু ভোটের মনোভাব নির্ধারণ করা যায় না। আপাতত স্পষ্ট, সংখ্যালঘু ভোট আর একমুখী থাকবে কি না, সেই প্রশ্নই রাজ্যের রাজনীতিতে নতুন করে গুরুত্ব পাচ্ছে।




