খবরিয়া ২৪ ডেস্ক, ১৩ জানুয়ারিঃ ভোটার তালিকার বিশেষ নিবিড় সংশোধন বা এসআইআর (SIR) প্রক্রিয়াকে ঘিরে রাজ্য রাজনীতিতে নতুন করে তীব্র বিতর্ক তৈরি হল। মঙ্গলবার বাঁকুড়ার খাতড়ায় এক বিজেপি নেতার গাড়ি থেকে প্রায় ৪ হাজার ফর্ম ৭ (ভোটার তালিকা থেকে নাম বাদ দেওয়ার আবেদনপত্র) উদ্ধার হওয়ায় চাঞ্চল্য ছড়ায়। বিষয়টি প্রকাশ্যে আসতেই তৃণমূল কংগ্রেস বিজেপির বিরুদ্ধে বৈধ ভোটারদের নাম বাদ দেওয়ার সুপরিকল্পিত চক্রান্তের অভিযোগ তোলে। নবান্ন থেকে সাংবাদিক বৈঠকে উদ্ধার হওয়া ফর্মের ছবি দেখিয়ে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ফের দাবি করেন, এসআইআর-এর আড়ালে ভোটাধিকার কেড়ে নেওয়ার চেষ্টা চলছে।
জানা গিয়েছে, মঙ্গলবার বাঁকুড়ার খাতড়া থানার অন্তর্গত সিনেমা মোড় এলাকায় একটি গাড়ি সন্দেহজনকভাবে দাঁড়িয়ে থাকতে দেখে স্থানীয় তৃণমূল নেতাদের সন্দেহ হয়। গাড়িটিকে ধাওয়া করে আটকাতেই চক্ষুচড়কগাছ হওয়ার মতো ঘটনা সামনে আসে। গাড়ি থেকে উদ্ধার হয় প্রায় ৪ হাজার ফর্ম ৭। সঙ্গে সঙ্গে পুলিশে খবর দেওয়া হয়। পরিস্থিতি বেগতিক বুঝে গাড়িতে থাকা তিনজন পালিয়ে যায়। তবে দু’জনকে আটক করে পুলিশ। স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, গাড়িতে থাকা পাঁচজনই বিজেপির সঙ্গে যুক্ত বলে পরিচিত। ধৃতদের মধ্যে একজন বিজেপির তালডাংরা বিধানসভার বিবরদা গ্রাম পঞ্চায়েতের প্রাক্তন মণ্ডল সভানেত্রী ঝুমা ঘোষের স্বামী প্রবীর ঘোষ।
এদিন নবান্নে সাংবাদিক বৈঠক থেকে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় উদ্ধার হওয়া ফর্ম ৭-এর ছবি দেখান। তিনি বলেন, “এই দেখুন, এটা আমার কাছে এসেছে। এটাই বর্তমান পরিস্থিতি। এভাবেই পরিকল্পিতভাবে ভোটারদের নাম বাদ দেওয়ার চক্রান্ত চলছে।” মুখ্যমন্ত্রীর অভিযোগ, এসআইআর-এর নামে সাধারণ মানুষকে হয়রানি করে তাঁদের গণতান্ত্রিক অধিকার কেড়ে নেওয়ার চেষ্টা করছে বিজেপি।
এই ঘটনার তীব্র নিন্দা করে তৃণমূলের বাঁকুড়া সাংগঠনিক জেলার সভাপতি তারাশঙ্কর রায় বলেন, “ভোটের আগে পরিকল্পিতভাবে ভোটারদের নাম বাদ দেওয়ার চেষ্টা চলছে। হাজার হাজার ফর্ম ৭ আগেভাগেই পূরণ করে গাড়িতে নিয়ে যাওয়া হচ্ছে। এটা কোনওভাবেই সাধারণ ঘটনা নয়। নির্বাচন কমিশন ও প্রশাসনের উচিত অবিলম্বে পূর্ণাঙ্গ তদন্ত করা।”
একই সুরে ক্ষোভ প্রকাশ করেন রানিবাঁধের তৃণমূল বিধায়ক জোৎস্না মাণ্ডি। তিনি বলেন, “গণতন্ত্রকে দুর্বল করার চেষ্টা চলছে। গরিব, আদিবাসী ও প্রান্তিক মানুষের ভোটাধিকার কেড়ে নেওয়ার নীলনকশা স্পষ্ট হয়ে গিয়েছে। আমরা চাই, দোষীদের দ্রুত গ্রেপ্তার করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দেওয়া হোক।”
উল্লেখ্য, ফর্ম ৭ ব্যবহার করা হয় ভোটার তালিকায় অন্তর্ভুক্ত কোনও নামের বিরুদ্ধে আপত্তি জানাতে অথবা মৃত বা স্থানান্তরিত ব্যক্তির নাম তালিকা থেকে বাদ দেওয়ার জন্য। তৃণমূলের দাবি, এই ফর্মের অপব্যবহার করেই রাজ্যের বিভিন্ন প্রান্তে বিজেপি বৈধ ভোটারদের নাম কেটে দেওয়ার চক্রান্ত চালাচ্ছে। এই ঘটনার পর এসআইআর প্রক্রিয়া ও নির্বাচন কমিশনের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন আরও জোরালো হল বলে রাজনৈতিক মহল মনে করছে।





