কলকাতা, ১৩ অক্টোবরঃ ভোটার তালিকায় নাম নেই? বিশেষ নিবিড় সংশোধন বা SIR-এর চূড়ান্ত তালিকা থেকে নাম বাদ পড়েছে? তা হলে নতুন করে নাম নথিভুক্ত করার সুযোগ রয়েছে। বাদ পড়া যোগ্য নাগরিকদের ভোটার তালিকায় ফের অন্তর্ভুক্ত করতে বিশেষ উদ্যোগের কথা জানিয়েছে নির্বাচন কমিশন। এ বার শুধু দফতরে গিয়ে আবেদন নয়, ভোটারদের কাছে পৌঁছবেন বুথ লেভেল অফিসার (BLO)-রাও। বাড়ি বাড়ি গিয়ে ফর্ম ৬ পূরণ করানোর পাশাপাশি পাড়ায় পাড়ায় শিবির করে আবেদন গ্রহণের ব্যবস্থা করা হবে বলে জানানো হয়েছে।
SIR-এর চূড়ান্ত ভোটার তালিকা প্রকাশের পর বহু নাগরিকের নাম বাদ পড়া নিয়ে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। নতুন ভোটারদের নাম নথিভুক্ত করা নিয়েও উদ্বেগ রয়েছে। এই পরিস্থিতিতে যোগ্য কোনও নাগরিক যাতে ভোটাধিকার থেকে বঞ্চিত না হন, তা নিশ্চিত করতে সক্রিয় হয়েছে নির্বাচন কমিশন। রাজ্যের ২৪টি জেলার নির্বাচন আধিকারিকদেরও এ বিষয়ে প্রচার ও প্রয়োজনীয় পদক্ষেপের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে বলে খবর।
কমিশনের পরিকল্পনা অনুযায়ী, SIR-এর আগের ও পরের ভোটার তালিকা মিলিয়ে দেখবেন বুথ লেভেল অফিসাররা। যাঁদের নাম তালিকায় নেই, তাঁদের মধ্যে যোগ্য নাগরিকদের চিহ্নিত করে যোগাযোগ করা হবে। প্রয়োজন অনুযায়ী বাড়িতে গিয়ে ফর্ম ৬ পূরণে সাহায্য করবেন সংশ্লিষ্ট আধিকারিকেরা। পাশাপাশি বিভিন্ন এলাকায় বুথ স্তরের শিবির আয়োজন করা হবে, যাতে সাধারণ মানুষ সহজেই আবেদন জানাতে পারেন।
শুধু শহর বা গ্রামের পরিচিত এলাকাই নয়, প্রান্তিক মানুষদের কাছেও পৌঁছনোর পরিকল্পনা রয়েছে কমিশনের। রাতের আশ্রয়কেন্দ্র, শ্রমিক কলোনি এবং গৃহহীন মানুষের বসবাসের জায়গায় বিশেষ শিবির করে নাম নথিভুক্তির উদ্যোগ নেওয়া হবে বলে জানানো হয়েছে। যাঁদের পক্ষে নির্বাচন দফতরে গিয়ে আবেদন করা কঠিন, তাঁদের কাছে পরিষেবা পৌঁছে দেওয়াই এই উদ্যোগের অন্যতম লক্ষ্য।
রাজ্যের অতিরিক্ত মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিক জানিয়েছেন, বাদ পড়া যোগ্য নাগরিকদের নাম দ্রুত ভোটার তালিকায় ফিরিয়ে আনতে রাজ্যজুড়ে বিশেষ উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে। কারও নাম বাদ পড়া নিয়ে অভিযোগ থাকলে সংশ্লিষ্ট বুথ লেভেল অফিসার (BLO), সহকারী নির্বাচনী নিবন্ধন আধিকারিক (AERO), নির্বাচনী নিবন্ধন আধিকারিক (ERO) কিংবা জেলা নির্বাচনী আধিকারিকের (DEO) সঙ্গে যোগাযোগ করা যাবে।
তবে নাম অন্তর্ভুক্তির জন্য নির্ধারিত নিয়ম মেনে আবেদন করতে হবে এবং যোগ্যতা যাচাইয়ের প্রক্রিয়াও সম্পন্ন হবে। SIR-পরবর্তী পরিস্থিতিতে কমিশনের এই উদ্যোগ কত দ্রুত বাস্তবায়িত হয়, এখন সেদিকেই নজর।





