কলকাতা, ২৬ সেপ্টেম্বরঃ কলকাতার ময়দানে দীর্ঘদিনের পরিচিত মুখ। মহামেডান স্পোর্টিং ক্লাবের সঙ্গে তাঁর সম্পর্কও দীর্ঘ দিনের। কখনও সহ-সভাপতি, কখনও সচিব ক্লাবের নানা গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব সামলানোর পর মাসখানেক আগেই সভাপতি পদে নির্বাচিত হয়েছেন গজল জাফর। এবার সেই ময়দান ছেড়ে সক্রিয় রাজনীতির মঞ্চে পা রাখতে চলেছেন তিনি। শনিবার কংগ্রেসে যোগ দেওয়ার কথা মহামেডান সভাপতির।
প্রদেশ কংগ্রেস সূত্রে খবর, শনিবার দুপুরে দলের কেন্দ্রীয় পর্যবেক্ষক প্রকাশ যোশীর উপস্থিতিতে কংগ্রেসে যোগ দেবেন গজল। ফলে কলকাতার ক্রীড়া মহল থেকে রাজনীতির আঙিনায় তাঁর এই প্রবেশ ঘিরে ইতিমধ্যেই চর্চা শুরু হয়েছে।
মহামেডান স্পোর্টিংয়ের সঙ্গে দীর্ঘদিনের যোগ গজলকে শুধু ক্লাব প্রশাসনের পরিচিত মুখই করেনি, কলকাতার ময়দানেও তাঁর যোগাযোগ তৈরি হয়েছে। হুমায়ুন কবীরের পর সম্প্রতি তিনি ক্লাবের সভাপতি নির্বাচিত হন। দায়িত্ব নেওয়ার মাসখানেকের মধ্যেই তাঁর রাজনীতিতে প্রবেশ নতুন মাত্রা যোগ করেছে।
রাজ্যে সাম্প্রতিক রাজনৈতিক পালাবদলের পর কংগ্রেসের সাংগঠনিক তৎপরতাও বেড়েছে বলে দলীয় সূত্রের দাবি। দু’দিন আগেই কংগ্রেসে যোগ দিয়েছেন সাহিত্যিক মানিক ফকির। সিঙ্গুর ও নন্দীগ্রামের জমি আন্দোলনের সঙ্গে যুক্ত লেখকের যোগদানকে তাৎপর্যপূর্ণ বলে ব্যাখ্যা করেছিল প্রদেশ কংগ্রেস। এবার মহামেডান সভাপতির যোগদানকেও একই ভাবে গুরুত্ব দিচ্ছে হাত শিবির।
কংগ্রেসের দাবি, তৃণমূলে ভাঙনের পর রাজ্যের রাজনৈতিক সমীকরণে পরিবর্তন এসেছে। বিশেষ করে সংখ্যালঘু ভোটব্যাঙ্কে দলের প্রভাব বাড়ানোর সুযোগ তৈরি হয়েছে। সেই আবহেই গজল জাফরের মতো ক্রীড়া প্রশাসক তথা ব্যবসায়ীর যোগদানকে গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করছে কংগ্রেস।
আর এখানেই ময়দান ও রাজনীতির যোগসূত্রটি আরও স্পষ্ট। এত দিন কলকাতার ফুটবল মাঠে মহামেডানের হয়ে প্রশাসনিক ভূমিকায় দেখা গিয়েছে গজলকে। এবার তাঁকে দেখা যেতে পারে রাজনৈতিক ময়দানে। সামনে কলকাতা পুরসভা নির্বাচনও। ফলে গজলের রাজনৈতিক আত্মপ্রকাশকে ঘিরে পুরভোটের অঙ্কও আলোচনায় আসছে। তবে তিনি ভবিষ্যতে ঠিক কোন ভূমিকায় সক্রিয় হবেন, তা এখনও স্পষ্ট নয়।





