খবরিয়া ২৪ ডেস্ক, ১৪ মার্চঃ রাজ্যের বেকার যুবকদের আর্থিক সহায়তা দিতে চালু হয়েছে নতুন প্রকল্প ‘যুবসাথী’। এই প্রকল্পের আওতায় মাসিক ভাতা সরাসরি ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টে পাচ্ছেন আবেদনকারী যুবক-যুবতীরা। আর সেই টাকাতেই এবার কলকাতার ব্রিগেডে প্রধানমন্ত্রীর সভায় যোগ দিতে রওনা দিলেন দুই বিজেপি কর্মী এমন ঘটনাকে ঘিরে শুরু হয়েছে জোর রাজনৈতিক চর্চা।
জলপাইগুড়ি জেলার রাজগঞ্জ এলাকার দুই যুবক গোপাল দাস ও কল্যাণ রায় স্থানীয়ভাবে বিজেপির সঙ্গে যুক্ত। রাজ্য সরকারের ‘যুবসাথী’ প্রকল্পে আবেদন করেছিলেন তাঁরা। যোগ্যতা যাচাইয়ের পর তাঁদের ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টে মাসিক অনুদান হিসেবে ১৫০০ টাকা জমা পড়ে। সেই টাকা পাওয়ার পরই তাঁরা কলকাতায় ব্রিগেড প্যারেড গ্রাউন্ডে প্রধানমন্ত্রীর সভায় যাওয়ার সিদ্ধান্ত নেন বলে জানান।
দুই যুবকের কথায়, আগে অর্থের অভাবে কলকাতায় যাওয়ার সুযোগ হচ্ছিল না। কিন্তু ‘যুবসাথী’র টাকা পাওয়ার পর সেই সমস্যা মিটে যায়। তাঁদের স্পষ্ট বক্তব্য, “আমাদের কাছে টাকা ছিল না। দিদির যুবসাথীর টাকা পাওয়ার পরই প্রধানমন্ত্রী মোদির সভায় যাচ্ছি।”
এই বক্তব্য সামনে আসতেই রাজনৈতিক মহলে শুরু হয়েছে তীব্র আলোচনা। তৃণমূল কংগ্রেসের তরফে কটাক্ষ করে বলা হয়েছে, এই ঘটনাই প্রমাণ করে রাজ্য সরকারের উন্নয়নমূলক প্রকল্প কোনও রাজনৈতিক দল বা মতাদর্শ দেখে করা হয় না। তৃণমূলের দাবি, অনেকেই অভিযোগ করেন যে শুধু তৃণমূল সমর্থকরাই সরকারি প্রকল্পের সুবিধা পান। কিন্তু এই দুই বিজেপি কর্মীর বক্তব্য সেই ধারণাকে সম্পূর্ণ ভুল প্রমাণ করেছে।
তৃণমূল নেতৃত্বের মতে, মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সরকার সব মানুষের জন্য কাজ করে এবং উন্নয়নের সুবিধা সকলের কাছেই পৌঁছে দেওয়াই সরকারের লক্ষ্য। অন্যদিকে বিজেপির তরফে এই বিষয়ে প্রকাশ্যে কোনও প্রতিক্রিয়া এখনও পাওয়া যায়নি।
তবে রাজগঞ্জের দুই যুবকের এই ব্রিগেড যাত্রা ইতিমধ্যেই রাজ্যের রাজনৈতিক মহলে নতুন বিতর্কের জন্ম দিয়েছে।





