মুর্শিদাবাদ, ১৫ অক্টোবরঃ দুর্গাপুজোর উৎসবের আবহে নিরাপত্তা নিয়ে সতর্কবার্তা মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর। লালবাগের বুধাসপাড়া সর্বজনীন দুর্গোৎসবের উদ্বোধনী মঞ্চ থেকে তাঁর স্পষ্ট বার্তা, পুজোর আনন্দে ব্যাঘাত ঘটানোর চেষ্টা করতে পারে কেউ কেউ। তাই উৎসব শুরুর আগেই সতর্ক হতে হবে পুলিশ ও পুজো উদ্যোক্তাদের। মুর্শিদাবাদের মতো স্পর্শকাতর জেলায় দাঁড়িয়ে মুখ্যমন্ত্রীর এই বার্তা বিশেষ তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করা হচ্ছে।
মুখ্যমন্ত্রী জানান, এ বার মুর্শিদাবাদ জেলায় ৮০০-র বেশি নতুন দুর্গাপুজো অনুমোদন পেয়েছে। পুজোর সংখ্যা বৃদ্ধির সঙ্গে সঙ্গে নিরাপত্তা ও প্রশাসনিক দায়িত্বও যে বাড়ছে, সেই বিষয়টি মাথায় রেখেই আগাম সতর্কতার বার্তা দেন তিনি। তাঁর কথায়, উৎসবের আনন্দ নষ্ট করার চেষ্টা হতে পারে। আবার অসাবধানতা থেকেও দুর্ঘটনা ঘটতে পারে। তাই কোনও রকম ঝুঁকি না নিয়ে আগে থেকেই প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে হবে।
সম্প্রতি জেলার দুটি পুজোমণ্ডপে অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটেছে বলে উল্লেখ করেন মুখ্যমন্ত্রী। সেই ঘটনাগুলির তদন্ত চলছে বলেও জানান তিনি। তদন্তের ফল সামনে আসার আগেই কোনও সিদ্ধান্তে পৌঁছনোর বদলে, আগামী দিনে যাতে এমন ঘটনার পুনরাবৃত্তি না হয়, সে দিকে নজর দেওয়ার পরামর্শ দেন তিনি। পুলিশ এবং পুজো কমিটিগুলিকে সমন্বয় রেখে কাজ করার বার্তাও দেন মুখ্যমন্ত্রী।
পুজোর উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে রাজ্যের দুর্গাপুজোর পরিসংখ্যানও তুলে ধরেন শুভেন্দু। তাঁর দাবি, পরিবর্তনের সরকার আসার পরে রাজ্যে ১২ হাজার নতুন পুজো হয়েছে। ২০২৫ সালে ৪৫ হাজার পুজো হয়েছিল, এ বার ৫৮ হাজার পুজোকে অনুদান দেওয়া হয়েছে। বিদ্যুতের খরচ ও লাইসেন্সের ক্ষেত্রেও ছাড়ের কথা জানান তিনি। পুজো উদ্যোক্তাদের সনাতনী ঐতিহ্য ও পরম্পরা রক্ষার জন্য অভিনন্দন জানান মুখ্যমন্ত্রী।
এ দিন মুর্শিদাবাদের উন্নয়ন নিয়েও একাধিক প্রতিশ্রুতি দেন তিনি। জেলার বেকার যুবকদের কর্মসংস্থান, গঙ্গাভাঙন রোধে কাজ শুরু এবং লালবাগের একটি ঝিল সংস্কারের কথা জানান শুভেন্দু। গঙ্গাভাঙন নিয়ে ২৭ অক্টোবর কেন্দ্রের সঙ্গে বৈঠক হওয়ার কথা বলেও উল্লেখ করেন তিনি। পাশাপাশি শিক্ষা ও স্বাস্থ্য পরিষেবার উন্নয়ন এবং বাল্যবিবাহ রুখতে কড়া পদক্ষেপের বার্তা দেন মুখ্যমন্ত্রী।
উৎসবের আনন্দের পাশাপাশি নিরাপত্তা, কর্মসংস্থান ও উন্নয়নের প্রতিশ্রুতি লালবাগের মঞ্চ থেকে এই তিনটি বিষয়কেই সামনে রাখলেন শুভেন্দু। এখন নজর, পুজোর দিনগুলিতে প্রশাসন ও উদ্যোক্তাদের সমন্বয়ে কতটা সুরক্ষিত রাখা যায় উৎসবের পরিবেশ।





