নন্দীগ্রাম, ৩০ সেপ্টেম্বরঃ নন্দীগ্রাম উপনির্বাচনের শেষ পর্বে একের পর এক ঘটনাকে ঘিরে ফের উত্তাপ ভোটের ময়দানে। হাই কোর্টের নির্দেশে জেল থেকে মুক্তি পেয়েছেন কংগ্রেস প্রার্থী মিলন প্রধান। শেষবেলায় এলাকায় গিয়ে প্রচারে নামার প্রস্তুতির মধ্যেই বুধবার নন্দীগ্রামে তাঁর হয়ে প্রচারে যাওয়ার পথে দুই কংগ্রেস নেতাকে পুলিশ আটক করেছে বলে অভিযোগ। ঘটনাকে ঘিরে প্রশাসনের কাছে প্রশ্ন তুলেছে প্রদেশ কংগ্রেস।
আটক দু’জন হলেন মতুয়া সম্প্রদায়ের অধিকার রক্ষা আন্দোলনের সঙ্গে যুক্ত কংগ্রেস নেতা সুকৃতিরঞ্জন বিশ্বাস এবং লেখক-সমাজকর্মী মানিক ফকির। কংগ্রেস সূত্রে খবর, বুধবার সকালে পূর্ব মেদিনীপুরের চণ্ডীপুরের একটি হোটেল থেকে নন্দীগ্রামের উদ্দেশে বেরোনোর সময় পুলিশ তাঁদের পথ আটকায়। পরে দু’জনকে নন্দীগ্রাম থানায় নিয়ে যাওয়া হয় বলে দাবি কংগ্রেসের। কেন তাঁদের আটক করা হয়েছে, সে বিষয়ে পুলিশের তরফে প্রকাশ্যে কোনও কারণ জানানো হয়নি বলে জানা গিয়েছে।
দুই নেতার দাবি, মঙ্গলবার রাতে চণ্ডীপুরের একটি গেস্ট হাউসে তাঁরা ছিলেন। রাত থেকেই সেখানে পুলিশের গতিবিধি লক্ষ্য করা গিয়েছিল। বুধবার সকালে প্রচারে যাওয়ার জন্য বেরোতেই তাঁদের আটক করা হয় বলে অভিযোগ। গাড়িতে বসে একটি ভিডিয়োবার্তায় মানিক ফকিরও দাবি করেন, নন্দীগ্রামে যেতে তাঁদের বাধা দেওয়া হয়েছে। তবে আটকের আইনগত কারণ বা পুলিশি পদক্ষেপের ভিত্তি নিয়ে প্রশাসনের বক্তব্য এখনও সামনে আসেনি। ফলে ঘটনার পূর্ণ প্রেক্ষাপট স্পষ্ট নয়।
এদিকে, মিলন প্রধানের জামিন ঘিরেও নন্দীগ্রামের ভোটপর্বে তৈরি হয়েছে আলাদা টানাপড়েন। ২০০৭ সালের নন্দীগ্রাম-সংক্রান্ত ছ’টি মামলায় মঙ্গলবার তাঁকে ২০ অক্টোবর পর্যন্ত অন্তর্বর্তী জামিন দিয়েছিল কলকাতা হাই কোর্ট। আদালতের শর্ত মেনে তদন্তে সহযোগিতা করতে হবে তাঁকে। ৬ অক্টোবর উপনির্বাচন এবং ৪ অক্টোবর পর্যন্ত প্রচারের সময় থাকায় জেলমুক্তির পর শেষ দফার প্রচারে অংশ নেওয়ার সুযোগ পেয়েছেন কংগ্রেস প্রার্থী।
মিলনের জামিনের নির্দেশকে ইতিমধ্যেই সুপ্রিম কোর্টে চ্যালেঞ্জ করেছে রাজ্য। তার মধ্যেই প্রচারে যাওয়ার পথে দুই কংগ্রেস নেতাকে আটকের ঘটনায় নতুন করে রাজনৈতিক চাপানউতোর শুরু হয়েছে। প্রদেশ কংগ্রেস সভাপতি শুভঙ্কর সরকার এই ঘটনাকে ‘অন্যায়’ বলে দাবি করে প্রতিবাদ জানিয়েছেন। তাঁর অভিযোগ, কংগ্রেসের প্রচারে যাওয়ার কারণেই এই পদক্ষেপ। তবে অভিযোগের পাল্টা কোনও সরকারি ব্যাখ্যা এখনও মেলেনি। ভোটের আগে নন্দীগ্রামের রাজনীতিতে তাই নতুন করে নজরে এই আটক-কাণ্ড।





