মাথাভাঙ্গা, ৩০ সেপ্টেম্বরঃ বিয়ে ঠিক হয়েছিল দুই পরিবারের সম্মতিতেই। চলছিল প্রস্তুতিও। কিন্তু বিয়ের আগে যুবতীর অন্য এক যুবকের সঙ্গে সম্পর্কের কথা জানতে পারে পাত্রপক্ষ। ঘনিষ্ঠ মুহূর্তের কিছু ছবি প্রকাশ্যে আসার বিষয়টিও সামনে আসে বলে অভিযোগ। এর পরেই বিয়েতে আপত্তি জানায় যুবকের পরিবার। আর সেই ঘটনাকে কেন্দ্র করেই মামলা, গ্রেফতার এবং প্রায় সাত মাস জেল হেফাজত। শেষ পর্যন্ত সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশে জামিন পেয়ে মাথাভাঙ্গা এসিজেএম আদালত থেকে মুক্তি পেলেন শীতলকুচির এক যুবক।
ঘটনাটি শীতলকুচি ব্লকের গোসাইরহাট এলাকার। স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, শীতলকুচির ওই যুবকের সঙ্গে গোসাইরহাটের এক যুবতীর প্রেমের সম্পর্ক ছিল। পরে দুই পরিবারের সম্মতিতে তাঁদের বিয়ে দেওয়ার সিদ্ধান্ত হয়। সেই মতো বিয়ের প্রস্তুতিও শুরু হয়েছিল।
পরিবার সূত্রে দাবি, বিয়ের আয়োজনের মধ্যেই পাত্রপক্ষ জানতে পারে, ওই যুবতীর অন্য এক যুবকের সঙ্গেও সম্পর্ক রয়েছে। সেই সম্পর্কের সূত্রে কিছু ঘনিষ্ঠ ছবিও প্রকাশ্যে আসে বলে অভিযোগ। বিষয়টি জানার পর যুবকের পরিবার বিয়েতে আর এগোতে চায়নি। এর পরেই পরিস্থিতি অন্য দিকে মোড় নেয়। অভিযোগ, বিয়েতে সম্মতি না দেওয়াকে কেন্দ্র করে যুবতীর পক্ষ থেকে শীতলকুচি থানায় ওই যুবকের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করা হয়। সেই মামলায় পুলিশ তাঁকে গ্রেফতার করে। দীর্ঘ সময় জেল হেফাজতে থাকার পর জামিনের জন্য আইনি প্রক্রিয়া শুরু হয়। প্রায় সাত মাস জেল হেফাজতে থাকার পর গত ২৫ সেপ্টেম্বর সুপ্রিম কোর্ট তাঁকে জামিন দেওয়ার নির্দেশ দেয়। সেই নির্দেশের ভিত্তিতেই এদিন মাথাভাঙ্গা এসিজেএম আদালতের প্রক্রিয়া সম্পন্ন হওয়ার পর মুক্তি পান ওই যুবক। যুবকের মুক্তির খবর পৌঁছতেই স্বস্তি ফিরেছে তাঁর পরিবারে। দীর্ঘ সময় ধরে আইনি লড়াইয়ের পর ছেলে বাড়ি ফেরায় পরিবারের সদস্যদের মধ্যে স্বস্তি দেখা দিয়েছে বলে স্থানীয় সূত্রের দাবি।
ঘটনাকে ঘিরে ইতিমধ্যেই শীতলকুচি এলাকায় চর্চা শুরু হয়েছে। তবে মামলার অভিযোগ, পাল্টা বক্তব্য এবং আদালতের পরবর্তী আইনি প্রক্রিয়া নিয়েও নজর রয়েছে। আদালতের নির্দেশ ও নথিপত্রের ভিত্তিতেই এই মামলার পরবর্তী গতিপথ স্পষ্ট হবে।





