কোচবিহার, ৩০ সেপ্টেম্বরঃ উত্তরপ্রদেশ থেকে ট্রাকে করে আসছিল বিপুল পরিমাণ নেশাজাতীয় কফ সিরাপ। গোপন সূত্রে খবর পেয়ে কোচবিহারে সেই ট্রাক আটক করে তল্লাশি চালিয়ে কফ সিরাপ উদ্ধারের দাবি করল কোতোয়ালি থানার পুলিশ। ঘটনায় গ্রেফতার করা হয়েছে তিন জনকে। উদ্ধার হওয়া কফ সিরাপ কোথায় নিয়ে যাওয়া হচ্ছিল, এর পিছনে কোনও বড় চক্র রয়েছে কি না তা খতিয়ে দেখছে পুলিশ।
পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, উত্তরপ্রদেশ থেকে একটি বড় ট্রাকে করে বিপুল পরিমাণ নেশাজাতীয় কফ সিরাপ কোচবিহারে আনা হচ্ছে বলে আগেই খবর আসে পুলিশের কাছে। খবরের ভিত্তিতে কোতোয়ালি থানার আধিকারিকেরা নজরদারি শুরু করেন। এরপর তপূরহাট সংলগ্ন কদমতলা এলাকায় ওই ট্রাকটির গতিরোধ করা হয়। ট্রাকটি থামিয়ে শুরু হয় তল্লাশি।
পুলিশের দাবি, তল্লাশিতে উদ্ধার হয়েছে বিপুল পরিমাণ নেশাজাতীয় কফ সিরাপ। উদ্ধার প্রক্রিয়ার স্বচ্ছতা বজায় রাখতে ম্যাজিস্ট্রেটের উপস্থিতিতেই তল্লাশি চালানো হয় বলে পুলিশ জানিয়েছে। অভিযানে ছিলেন কোতোয়ালি থানার আইসি তথা এসিপি সুকুমার ঘোষ, ম্যাজিস্ট্রেট এবং পুলিশের অন্যান্য আধিকারিকেরা।
ঘটনার পর ট্রাকের চালক ও সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের জিজ্ঞাসাবাদ শুরু হয়েছে। উদ্ধার হওয়া কফ সিরাপের পরিমাণ, তার উৎস এবং গন্তব্য সম্পর্কে তথ্য সংগ্রহ করছেন তদন্তকারীরা। পুলিশের প্রাথমিক তদন্তে ট্রাকটি উত্তরপ্রদেশ থেকে কোচবিহারে এসেছিল বলে জানা গেলেও, মাঝপথে অন্য কোথাও থেকে ওই নিষিদ্ধ সামগ্রী ট্রাকে তোলা হয়েছিল কি না, সেটিও খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
কোতোয়ালি থানার তদন্তকারীদের নজরে এখন আরও কয়েকটি প্রশ্ন। এত বিপুল পরিমাণ কফ সিরাপ কোচবিহারে কার কাছে পৌঁছনোর কথা ছিল? এর পিছনে স্থানীয় কোনও যোগ রয়েছে কি না? শুধু তিন জনই এই কারবারের সঙ্গে যুক্ত, নাকি এর পিছনে রয়েছে আরও বড় একটি নেটওয়ার্ক?
গ্রেফতার তিন জনকে জিজ্ঞাসাবাদ করে সেই সব প্রশ্নের উত্তর খোঁজার চেষ্টা চলছে। পাশাপাশি উদ্ধার হওয়া সামগ্রীর নমুনা ও নথিপত্রও খতিয়ে দেখা হচ্ছে। তদন্তকারীদের আশা, এই জিজ্ঞাসাবাদ এবং নথি যাচাইয়ের সূত্র ধরেই নেশাজাতীয় কফ সিরাপ পাচারের পুরো চক্রের হদিস মিলতে পারে।





