খবরিয়া ২৪ ডেস্ক, ২৮ জানুয়ারিঃ আনন্দপুরের ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডের ঘটনার ৪৮ ঘণ্টা পর বড়সড় সাফল্য পেল নরেন্দ্রপুর থানার পুলিশ। মঙ্গলবার সন্ধ্যায় গ্রেপ্তার করা হল গুদামের মালিক গঙ্গাধর দাসকে। অগ্নিকাণ্ডের ঘটনার পর থেকেই তিনি গা ঢাকা দিয়েছিলেন। শেষ পর্যন্ত পূর্ব মেদিনীপুরে নিজের বাড়ি থেকেই তাঁকে আটক করে পুলিশ। নরেন্দ্রপুর থানার একটি বিশেষ দল মেদিনীপুরে অভিযান চালিয়ে গঙ্গাধর দাসকে গ্রেপ্তার করে।
পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, আনন্দপুরে যে গুদামে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ড ঘটে, সেই জমির পুরো অংশেরই মালিক গঙ্গাধর দাস। ওই গুদামটি মোমো প্রস্তুতকারী একটি ডেকরেটার্স সংস্থাকে লিজে দেওয়া হয়েছিল। তবে ধৃত গুদাম মালিক এই দুর্ঘটনার দায় পুরোপুরি মোমো সংস্থার ঘাড়ে চাপিয়েছেন। তাঁর দাবি, গুদামের অভ্যন্তরীণ কাজকর্ম ও নিরাপত্তা ব্যবস্থার দায়িত্ব ছিল লিজ নেওয়া সংস্থার। বুধবার তাঁকে বারুইপুর আদালতে তোলা হতে পারে।
এদিকে, এই মর্মান্তিক ঘটনায় মৃতদের পরিবার পিছু ১০ লক্ষ টাকা করে আর্থিক সাহায্যের ঘোষণা করেছে রাজ্য সরকার। দেহাংশের শনাক্তকরণ সম্পূর্ণ হলেই পরিবারের হাতে ক্ষতিপূরণের চেক তুলে দেওয়া হবে বলে জানিয়েছেন রাজ্যের এক মন্ত্রী। সেই উদ্দেশ্যে বুধবার আদালতের কাছে ডিএনএ পরীক্ষার অনুমতি চাওয়া হবে।
অন্যদিকে, মঙ্গলবার রাতে আনন্দপুরের ঘটনাস্থল থেকে আরও তিনজনের দেহ উদ্ধার হয়েছে। ফলে এখনও পর্যন্ত মোট মৃতের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ১১ জনে। আশঙ্কাজনকভাবে এখনও ১৫ জনেরও বেশি নিখোঁজ রয়েছেন। পুলিশ জানিয়েছে, এখনও পর্যন্ত ১৫টি নিখোঁজের অভিযোগ জমা পড়েছে, যার মধ্যে মঙ্গলবার নতুন করে একটি অভিযোগ দায়ের হয়েছে।
উল্লেখ্য, রবিবার রাত প্রায় ৩টে নাগাদ স্থানীয় বাসিন্দারা প্রথম গুদাম থেকে আগুনের শিখা দেখতে পান। সঙ্গে সঙ্গে দমকল ও পুলিশে খবর দেওয়া হয়। যুদ্ধকালীন তৎপরতায় শুরু হয় উদ্ধার ও আগুন নেভানোর কাজ। প্রায় দেড় দিন ধরে দমকলের ১৬টি ইঞ্জিনের চেষ্টায় মঙ্গলবার আগুন পুরোপুরি নিয়ন্ত্রণে আসে। তদন্তে একের পর এক তথ্য সামনে আসায় এই ঘটনায় আরও গ্রেপ্তারের সম্ভাবনা উড়িয়ে দিচ্ছে না পুলিশ।





