শিলিগুড়ি, ৩ ফেব্রুয়ারিঃ রেল হকারদের উপর দমনপীড়নমূলক নীতির প্রতিবাদে আন্দোলনে সরব হল আইএনটিটিইউসি। এনজেপি স্টেশন চত্বরে দীর্ঘদিন ধরে চা, ঘুঘনি, রুটি-সবজি সহ বিভিন্ন নিত্যপ্রয়োজনীয় খাদ্যদ্রব্য বিক্রি করে জীবিকা নির্বাহ করা হকারদের অভিযোগ, রেল দপ্তরের কড়াকড়িতে তাঁদের রুজি-রুটিতে টান পড়েছে। রেলের ভিতরে বা স্টেশন চত্বরে ছোট পরিসরে ব্যবসা করলেই হাজার টাকার বেশি জরিমানা আদায় করা হচ্ছে বলে অভিযোগ।
হকারদের দাবি, দিন আনা দিন খাওয়া পরিবারগুলির পক্ষে এই বিপুল জরিমানা দেওয়া অসম্ভব। ফলে অনেকেই রেল কর্মীদের নজর এড়িয়ে ব্যবসা করতে বাধ্য হচ্ছেন, আবার অনেকে জরিমানার ভয়ে পুরোপুরি ব্যবসা বন্ধ করে দিয়েছেন। এর জেরে পরিবার নিয়ে অনাহারে দিন কাটানোর মতো পরিস্থিতিও তৈরি হয়েছে বলে অভিযোগ আন্দোলনকারীদের।
এই দমনপীড়নের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ জানাতে মঙ্গলবার ব্যবসার সামগ্রী নিয়েই হকাররা হাজির হন এনজেপি-র এডিআরএম অফিসের সামনে। অফিস গেটের সামনেই শুরু হয় অবস্থান বিক্ষোভ। হকারদের এই আন্দোলনকে পূর্ণ সমর্থন জানিয়ে তাঁদের পাশে দাঁড়ায় আইএনটিটিইউসি-র এনজেপি শাখা। সংগঠনের সভাপতি সুজয় সরকারের নেতৃত্বে এই বিক্ষোভ কর্মসূচি পালিত হয়।
বিক্ষোভ চলাকালীন আন্দোলনকারীরা দাবি করেন, অবিলম্বে হকারদের উপর জরিমানা ও দমনমূলক ব্যবস্থা বন্ধ করতে হবে এবং তাঁদের জন্য নির্দিষ্ট নীতিমালা তৈরি করতে হবে। পরে এডিআরএম অজয় সিং-এর হাতে একটি স্মারকলিপি তুলে দেওয়া হয়। স্মারকলিপিতে সাত দিনের সময়সীমা বেঁধে দেওয়া হয়েছে বলে জানান সুজয় সরকার।
আইএনটিটিইউসি নেতাদের হুঁশিয়ারি, নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে যদি রেল দপ্তর হকারদের সমস্যা সমাধানে পদক্ষেপ না করে, তবে বৃহত্তর আন্দোলনের পথে হাঁটা হবে। প্রয়োজনে কর্মবিরতি পালন করে রেল পরিষেবা অচল করে দেওয়ার মতো কঠোর পদক্ষেপ নেওয়া হবে বলেও হুঁশিয়ারি দেন আন্দোলনকারীরা।





