কলকাতা, ৩০ সেপ্টেম্বরঃ দুর্গাপুজোর ‘প্রিভিউ শো’ বা পুজো পরিক্রমার পাস বিক্রিকে ঘিরে আর্থিক অনিয়মের অভিযোগ। সেই মামলাতেই এনফোর্সমেন্ট ডিরেক্টরেটের (ইডি) তলবে বুধবার সিজিও কমপ্লেক্সে হাজির হলেন প্রাক্তন তথ্য ও সংস্কৃতি মন্ত্রী ইন্দ্রনীল সেন। নির্ধারিত সময়ের প্রায় ঘণ্টাখানেক পরে, বেলা ১১টা নাগাদ কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থার দফতরে পৌঁছন তিনি। পাস বিক্রির টাকা, সংশ্লিষ্ট সংস্থার আর্থিক লেনদেন এবং অভিযোগের সঙ্গে তাঁর যোগ এই সব বিষয়েই তাঁকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হতে পারে বলে ইডি সূত্রে খবর।
২০২১ সালে কলকাতার দুর্গাপুজো ইউনেস্কোর ‘ইনট্যানজিবল কালচারাল হেরিটেজ’-এর স্বীকৃতি পাওয়ার পরই এই বিতর্কের সূত্রপাত। অভিযোগ, এর পর ‘মাস আর্ট’ নামে একটি সংগঠন নিজেদের ইউনেস্কোর ‘অফিশিয়াল পার্টনার’ বলে প্রচার করে দুর্গাপুজোর প্রচারে নামে। সেই সূত্রেই কলকাতার বিভিন্ন পুজোর ‘প্রিভিউ’ বা পরিক্রমার নামে এন্ট্রি পাস বিক্রি করা হত। ইডির অভিযোগ, ওই পাস বিক্রির ক্ষেত্রে ইউনেস্কোর নাম ও লোগো ব্যবহার করা হয়েছিল বেআইনি ভাবে।
তদন্তকারীদের দাবি, চড়া দামে ওই পাস বিক্রি করে প্রায় ৫০ থেকে ৬০ কোটি টাকার আর্থিক অনিয়ম হয়ে থাকতে পারে। ‘মাস আর্ট’-এর সঙ্গে ইন্দ্রনীলের স্ত্রী মধুছন্দা সেনের যোগ ছিল বলেও তদন্তকারীদের দাবি। পাস বিক্রির টাকা কোথায় গিয়েছে, কোন কোন অ্যাকাউন্টে লেনদেন হয়েছে এবং সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের মধ্যে আর্থিক যোগসূত্র কী সেই হিসাবই এখন খতিয়ে দেখছে ইডি।
এই মামলার সূত্রপাত জুনে। প্রতারণার অভিযোগ তুলে জয়দীপ মুখোপাধ্যায় বউবাজার থানায় অভিযোগ দায়ের করেন। সেই অভিযোগের ভিত্তিতেই তদন্তে নামে ইডি। মঙ্গলবার সকাল থেকে কসবার ইন্দ্রনীলের বাড়ি-সহ একাধিক ঠিকানায় তল্লাশি চালান কেন্দ্রীয় তদন্তকারীরা। পঞ্চসায়রে ইভেন্ট ম্যানেজার অরিজিৎ দাশগুপ্তের বাড়ি, হিন্দুস্তান পার্ক, হাইল্যান্ড পার্ক এবং সিঙ্গুরে ইন্দ্রনীলের বাগানবাড়িতেও চলে তল্লাশি। সঙ্গে ছিল কেন্দ্রীয় বাহিনী।
এর পরেই বুধবার ইন্দ্রনীলকে সিজিও কমপ্লেক্সে তলব করা হয়। অভিযোগ অবশ্য আগেই অস্বীকার করেছেন প্রাক্তন মন্ত্রী। ফলে তাঁর জিজ্ঞাসাবাদে ‘পুজোর পাস’-এর আর্থিক লেনদেন এবং অভিযোগের সঙ্গে তাঁর যোগ নিয়ে কী তথ্য সামনে আসে, এখন সেদিকেই নজর।





