নয়াদিল্লী, ৩০ সেপ্টেম্বরঃ নির্বাচন কমিশনের কাজকর্ম এবং ভোটার তালিকা সংশোধনের ‘এসআইআর’ প্রক্রিয়া নিয়ে বিরোধীদের অভিযোগকে সামনে রেখে এবার দেশ জুড়ে আন্দোলনের কর্মসূচি ঘোষণা করল ‘ইন্ডিয়া’ জোট। মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের পদত্যাগের দাবিও থাকছে সেই কর্মসূচির কেন্দ্রে। বুধবার দিল্লির কনস্টিটিউশন ক্লাবে প্রায় তিন ঘণ্টার বৈঠকের পর বিরোধী দলগুলি জানায়, ২ অক্টোবর থেকে ৮ অক্টোবর পর্যন্ত দেশ জুড়ে ‘গণতন্ত্র বাঁচাও’ মিছিল ও কর্মসূচি হবে। ৬ অক্টোবর বিরোধী সাংসদেরা নির্বাচন সদরের উদ্দেশে মিছিল করবেন।
বৈঠকে কংগ্রেস, তৃণমূল, সিপিএম-সহ ১৯টি দল অংশ নেয়। তবে আম আদমি পার্টি এবং ডিএমকে বৈঠকে ছিল না। সমাজবাদী পার্টির প্রধান অখিলেশ যাদবও উপস্থিত ছিলেন না, যদিও তাঁর দলের প্রতিনিধি বৈঠকে যোগ দেন। ‘ইন্ডিয়া’র অভ্যন্তরীণ সমীকরণ নিয়ে নানা জল্পনার মধ্যেই এদিনের বৈঠকে মূলত নির্বাচন কমিশন, এসআইআর এবং ভোটার তালিকা নিয়ে যৌথ কর্মসূচির রূপরেখা তৈরি হয়েছে।
বৈঠকের পরে যৌথ সাংবাদিক বৈঠকে কংগ্রেস সভাপতি মল্লিকার্জুন খড়্গে জানান, অক্টোবর-নভেম্বরে আরও পাঁচটি বড় সভা করবে বিরোধী জোট। ১ নভেম্বর দিল্লিতে একটি বড় সমাবেশের কথাও ঘোষণা করা হয়েছে। অক্টোবরের দ্বিতীয় সপ্তাহে রাষ্ট্রপতি দ্রৌপদী মুর্মুর সঙ্গে দেখা করার জন্য সময় চাওয়ার সিদ্ধান্ত হয়েছে। এসআইআর এবং নির্বাচনী ব্যবস্থাকে ঘিরে যে মামলাগুলি সুপ্রিম কোর্টে রয়েছে, সেগুলির দ্রুত নিষ্পত্তির আর্জিও জানাবে বিরোধীরা।
খড়্গে জানান, আগামী নির্বাচনে এসআইআরের আগের ভোটার তালিকা ব্যবহারের দাবি জানানো হবে। ভোটার তালিকা থেকে কোনও নাম বাদ দেওয়ার আগে নোটিস এবং আপিলের সুযোগ, প্রশাসনিক কারণে নাম বাদ পড়লে বৈধ ভোটারদের সুরক্ষা এবং ইভিএমের পরিবর্তে ব্যালটে ভোট এই দাবিগুলিও সামনে রাখা হয়েছে।
মঞ্চে এদিন জ্ঞানেশ কুমারকে নিয়ে সরব হন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ও। তাঁর অভিযোগ, নির্বাচন প্রক্রিয়ায় কারচুপি হয়েছে এবং মুখ্য নির্বাচন কমিশনারের পদত্যাগ করা উচিত। রাহুল গান্ধী বলেন, গণতান্ত্রিক ব্যবস্থার প্রশ্নে বিরোধীরা একসঙ্গে লড়াই করবে। তবে বিরোধীদের অভিযোগগুলি নির্বাচন কমিশন ও শাসক পক্ষের তরফে খারিজ করা হয়েছে; কমিশন জানিয়েছে, ভোটার তালিকা সংশোধন নিয়ে ওঠা অভিযোগের মধ্যে একাধিক দাবি তথ্যগত ভাবে বিভ্রান্তিকর।
ফলে জ্ঞানেশ কুমার ও এসআইআর-কে কেন্দ্র করে রাজনৈতিক টানাপড়েন এবার সংসদীয় পরিসর ছাড়িয়ে রাস্তায় নামছে। ২ অক্টোবর থেকে শুরু হতে চলা কর্মসূচির দিকে এখন নজর রাজনৈতিক মহলের।





