খবরিয়া ২৪ ডেস্ক, ১৩ মার্চঃ নির্বাচন কমিশনকে ঘিরে নতুন করে রাজনৈতিক সংঘাতের আবহ তৈরি হয়েছে। মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমার-এর অপসারণের দাবি জানিয়ে সংসদে প্রস্তাব জমা দিয়েছে বিরোধী জোট ইন্ডিয়া জোট। এই উদ্যোগে নেতৃত্ব দিয়েছে সর্বভারতীয় তৃণমূল কংগ্রেস। প্রস্তাবটিতে লোকসভা ও রাজ্যসভা মিলিয়ে মোট ১৯৩ জন সাংসদের স্বাক্ষর জোগাড় করা হয়েছে বলে সূত্রের খবর। এর মধ্যে লোকসভায় ১৩০ জন এবং রাজ্যসভায় ৬৩ জন সাংসদ রয়েছেন।
বিরোধী শিবিরের অভিযোগ, দায়িত্ব পালন করতে গিয়ে মুখ্য নির্বাচন কমিশনার পক্ষপাতদুষ্ট ও বৈষম্যমূলক আচরণ করেছেন। সংসদে জমা দেওয়া নোটিসে তাঁর বিরুদ্ধে মোট সাতটি অভিযোগ তোলা হয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে নির্বাচন পরিচালনায় পক্ষপাতের অভিযোগ, নির্বাচনী জালিয়াতির তদন্তে ইচ্ছাকৃত বাধা সৃষ্টি এবং এসআইআর প্রক্রিয়ার মাধ্যমে বিপুল সংখ্যক ভোটারকে ভোটাধিকার থেকে বঞ্চিত করার অভিযোগ।
এই প্রসঙ্গে তৃণমূল কংগ্রেসের এক বর্ষীয়ান নেতা দাবি করেছেন, লোকসভা ও রাজ্যসভা উভয় কক্ষের বহু সাংসদের মধ্যে মুখ্য নির্বাচন কমিশনারের ভূমিকা নিয়ে অসন্তোষ তৈরি হয়েছে। সেই কারণেই দ্রুত স্বাক্ষর সংগ্রহ করা সম্ভব হয়েছে। তবে আইনি প্রক্রিয়া অত্যন্ত জটিল হওয়ায় অত্যন্ত সতর্কতার সঙ্গে পদক্ষেপ নিচ্ছে দল।
সংবিধান অনুযায়ী, সুপ্রিম কোর্ট বা হাইকোর্টের বিচারপতিদের অপসারণের মতোই মুখ্য নির্বাচন কমিশনারের বিরুদ্ধেও ইমপিচমেন্ট প্রক্রিয়া অনুসরণ করতে হয়। নিয়ম অনুযায়ী, প্রস্তাবটি সংসদের দুই কক্ষেই জমা দেওয়া হয়েছে। এখন ওম বিড়লা এবং জগদীপ ধনখড় (রাজ্যসভার চেয়ারম্যান) সিদ্ধান্ত নেবেন প্রস্তাবটি গ্রহণ করা হবে কি না।
যদি প্রস্তাবটি গৃহীত হয়, তাহলে তিন সদস্যের একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হবে। সেই কমিটি অভিযোগ খতিয়ে দেখে অনুমোদন দিলে বিষয়টি সংসদে আলোচনার জন্য তোলা হবে। এরপর বিতর্কের পর ভোটাভুটির মাধ্যমে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।
রাজনৈতিক মহলের মতে, এই ইমপিচমেন্ট প্রক্রিয়া দীর্ঘ এবং এতে বিপুল সংখ্যক সাংসদের সমর্থন প্রয়োজন। ফলে বিরোধীদের জন্য এই সংখ্যাগরিষ্ঠতা জোগাড় করাই সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে উঠতে পারে।





