কলকাতা, ১৪ অক্টোবরঃ দুর্গাপুজোর মরসুমে বইয়ের স্টল বসানো নিয়ে আইনি টানাপড়েন। বনগাঁ-নৈহাটি ও যশোর এলাকায় বামেদের বুকস্টল ঘিরে দায়ের হওয়া মামলায় পুলিশের কাছে বিস্তারিত রিপোর্ট তলব করল কলকাতা হাই কোর্ট। বৃহস্পতিবারের মধ্যেই সেই রিপোর্ট জমা দিতে হবে। কতগুলি স্টল বসানোর পরিকল্পনা রয়েছে, কোথাও স্টল তৈরির কাজ শুরু হয়েছে কি না এবং সংশ্লিষ্ট ক্ষেত্রে পূর্ত দপ্তরের অনুমতি রয়েছে কি না, রিপোর্টে তার উল্লেখ করতে হবে। বুধবার মামলার শুনানিতে বিচারপতি সৌগত ভট্টাচার্যের পর্যবেক্ষণ, “বেলুন-বন্দুকের স্টল বসতে পারলে বইয়ের স্টল বসবে না কেন?”
প্রত্যেক বছর দুর্গাপুজোর সময় ওই এলাকাগুলিতে অস্থায়ী বুকস্টল তৈরি করে বামেরা। কিন্তু অভিযোগ, এ বছর সেই স্টল বসানোর অনুমতি পাওয়া নিয়ে সমস্যা তৈরি হয়েছে। একই জায়গায় অন্য একটি সংগঠনকে অস্থায়ী কাঠামো তৈরির অনুমতি দেওয়া হলেও বামেদের ক্ষেত্রে আপত্তি জানানো হচ্ছে বলে দাবি সিপিএমের। এই বৈষম্যের অভিযোগ তুলেই আদালতের দ্বারস্থ হয়েছিল দলটি।
বুধবার বিচারপতি সৌগত ভট্টাচার্যের এজলাসে মামলাটির শুনানি হয়। সিপিএমের আইনজীবী আদালতে জানান, দীর্ঘদিন ধরেই ওই এলাকায় বইয়ের স্টল বসানো হচ্ছে। কিন্তু এ বার সেই উদ্যোগে বাধা দেওয়া হচ্ছে। অথচ হিন্দু জাগরণ মঞ্চকে সেখানে স্টল তৈরির অনুমতি দেওয়া হয়েছে বলে অভিযোগ। এই পরিস্থিতিতে বইয়ের স্টল বসানোর ক্ষেত্রে আপত্তির কারণ নিয়ে প্রশ্ন তোলেন মামলাকারীর আইনজীবী।
শুনানিতে বিচারপতির প্রশ্ন, যেখানে বেলুন-বন্দুকের মতো সামগ্রীর স্টল বসানো যায়, সেখানে বইয়ের স্টল বসাতে অসুবিধা কোথায়? বইয়ের দোকান থেকে লটারির মতো কিছু বিক্রি হবে না, তা হলে আপত্তির কারণ কী এই মর্মেই পর্যবেক্ষণ করেন তিনি।
অন্যদিকে, রাজ্যের হয়ে সওয়াল করেন অ্যাডভোকেট জেনারেল সুরজিৎনাথ মিত্র। তাঁর বক্তব্য, স্টল বসানোর জন্য সিপিএম মহকুমাশাসকের কাছে আবেদন জানিয়েছিল। কিন্তু সংশ্লিষ্ট জমি পূর্ত দপ্তরের অধীন হওয়ায় মহকুমাশাসক কীভাবে অনুমতি দিতে পারেন, তা নিয়ে প্রশ্ন তোলেন তিনি। তাঁর মতে, স্টল বসানোর অনুমতি পেতে হলে পূর্ত দপ্তরের কাছেই আবেদন করা প্রয়োজন ছিল।
দু’পক্ষের বক্তব্য শোনার পরই পুলিশের কাছে বিস্তারিত রিপোর্ট চেয়েছে আদালত। স্টল বসানোর অনুমতি ও সংশ্লিষ্ট দপ্তরের ভূমিকা খতিয়ে দেখতেই এই নির্দেশ। বৃহস্পতিবারের মধ্যে রিপোর্ট জমা পড়ার পর মামলার পরবর্তী শুনানিতে বিষয়টি আরও স্পষ্ট হতে পারে।





