খবরিয়া ২৪ ডেস্ক, ২২ জানুয়ারিঃ অভিনেতা তথা বিজেপি বিধায়ক হিরণ চট্টোপাধ্যায়ের দ্বিতীয় বিয়ে ঘিরে তীব্র বিতর্ক ছড়াল রাজ্য রাজনীতি থেকে টলিপাড়ায়। মঙ্গলবার বেনারসের ঘাটে ঋতিকা গিরির সঙ্গে সাতপাকে বাঁধা পড়ার ছবি প্রকাশ্যে আসার ২৪ ঘণ্টার মধ্যেই বুধবার পুলিশের দ্বারস্থ হলেন হিরণের প্রথম স্ত্রী অনিন্দিতা চট্টোপাধ্যায় এবং তাঁদের মেয়ে নিয়াশা। অনিন্দিতার অভিযোগ, কোনও আইনি বিচ্ছেদ বা ডিভোর্স ছাড়াই দ্বিতীয় বিয়ে করেছেন হিরণ, যা আইনত সম্পূর্ণ বেআইনি।
বুধবার আইনজীবী ও মেয়েকে সঙ্গে নিয়ে থানায় গিয়ে অনিন্দিতা হিরণ চট্টোপাধ্যায় এবং তাঁর দ্বিতীয় স্ত্রী ঋতিকা গিরির বিরুদ্ধে লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন। থানা থেকে বেরিয়ে অনিন্দিতা জানান, তিনি আইনি পথেই এই লড়াই চালাবেন। তাঁর দাবি, এখনও পর্যন্ত আদালত থেকে ডিভোর্স সংক্রান্ত কোনও নোটিশ তিনি পাননি। “আইনজীবীর পাঠানো চিঠি মানেই ডিভোর্স হয়ে যাওয়া নয়,” স্পষ্ট ভাষায় বলেন তিনি।
এদিকে সমাজমাধ্যমে ঋতিকা গিরি দাবি করেছেন, হিরণের সঙ্গে তাঁর পাঁচ বছরের সম্পর্ক এবং অনিন্দিতাকে ডিভোর্সের নোটিশ পাঠানো হয়েছে। এই দাবিকে সরাসরি উড়িয়ে দিয়েছেন অনিন্দিতা। তাঁর প্রশ্ন, “ডিভোর্স যদি হয়েই গিয়ে থাকে, তাহলে সম্প্রতি হিরণ কেন আমার সঙ্গে যৌথভাবে ফ্ল্যাট কিনলেন?” পাশাপাশি তিনি দাবি করেন, ২০২৫ সালেও হিরণের সঙ্গে তিনি একসঙ্গে থেকেছেন এবং সেই সংক্রান্ত সিসিটিভি ফুটেজ তাঁর কাছে প্রমাণ হিসেবে রয়েছে।
ঋতিকার পাঁচ বছরের সম্পর্কের দাবিও মিথ্যা বলে দাবি করেন অনিন্দিতা। তাঁর বক্তব্য, “২০২১ সালের ভোটের সময় হিরণ খড়গপুরে ছিলেন, তখন ঋতিকাকে চিনতেনই না। পাঁচ বছরের সম্পর্কের কথা সম্পূর্ণ হাস্যকর।”
এই পারিবারিক বিতর্কে মানসিকভাবে ভেঙে পড়েছেন হিরণ ও অনিন্দিতার ১৯ বছরের মেয়ে নিয়াশা। মধ্য কলকাতার একটি নামী কলেজের মনোবিজ্ঞানের ছাত্রী নিয়াশা থানার বাইরে কান্নায় ভেঙে পড়ে জানান, বাবার দ্বিতীয় বিয়ের খবর তিনি সোশ্যাল মিডিয়াতেই জানতে পেরেছেন। তাঁর কথায়, “বাবা কী করছে, সেটা আমাকে সমাজমাধ্যম থেকে জানতে হচ্ছে। উনি বাবা ও স্বামী দুই হিসেবেই ব্যর্থ।” মানসিক চাপে আপাতত কলেজে যাওয়া বন্ধ রেখেছেন তিনি।
ঋতিকার বয়স ও আচরণ নিয়েও বিস্ফোরক অভিযোগ তুলেছেন অনিন্দিতা ও নিয়াশা। তাঁদের দাবি, ঋতিকা প্রায়ই মেসেজ করে আত্মহত্যার হুমকি দেন এবং হিরণ নিজেই একসময় বলেছিলেন যে তাঁকে ব্ল্যাকমেল করা হচ্ছে। অনিন্দিতার কটাক্ষ, “২৫ বছর সংসার করেছি আমি। শুধু মাথায় সিঁদুর পরে বিদেশ ঘুরলেই কেউ বউ হয়ে যায় না।”
এত বিতর্কের মাঝেও এখনও পর্যন্ত হিরণ চট্টোপাধ্যায়ের কোনও প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি। অনিন্দিতা স্পষ্ট জানিয়েছেন, সমস্ত প্রমাণ আদালতের সামনে পেশ করা হবে এবং আইনি লড়াই চলবে।





