কোচবিহার, ১৪ অক্টোবরঃ কোচবিহার জেলা পরিষদের নেতৃত্বে বদল। নতুন সভাধিপতি নির্বাচিত হলেন হিমানী ঈশোর। বুধবার জেলা পরিষদের সভাধিপতি নির্বাচন প্রক্রিয়ায় উপস্থিত ২০ জন সদস্যই তাঁর পক্ষে ভোট দেন। জেলা পরিষদের মোট সদস্যসংখ্যা ৩২। অতিরিক্ত জেলাশাসক তথা জেলা পরিষদের দায়িত্বপ্রাপ্ত আধিকারিক সজল তামাংয়ের উপস্থিতিতে নির্বাচন প্রক্রিয়া সম্পন্ন হয়। এই নির্বাচনের মধ্য দিয়ে জেলা পরিষদের প্রশাসনিক ও রাজনৈতিক নেতৃত্বে নতুন অধ্যায় শুরু হল।
রাজ্যে রাজনৈতিক পালাবদলের পর থেকেই কোচবিহার জেলা পরিষদকে ঘিরে নানা জল্পনা তৈরি হয়েছিল। অভিযোগ, প্রাক্তন সভাধিপতি সুমিতা বর্মন নিয়মিত জেলা পরিষদে উপস্থিত থাকছিলেন না। তাঁর অনুপস্থিতি নিয়ে অসন্তোষের জেরেই জেলা পরিষদের সদস্যদের একাংশ তাঁর বিরুদ্ধে অনাস্থা প্রস্তাব আনেন। সেই প্রস্তাব পাস হওয়ার পর থেকেই নতুন সভাধিপতি নির্বাচন নিয়ে তৎপরতা শুরু হয়।
জেলা পরিষদের নেতৃত্ব বদলের প্রক্রিয়া শেষ পর্যন্ত গড়ায় বুধবারের নির্বাচনে। এ দিন মোট ২০ জন সদস্য উপস্থিত ছিলেন। উপস্থিত সকলেই হিমানী ঈশোরের পক্ষে ভোট দেওয়ায় নতুন সভাধিপতি নির্বাচনের প্রক্রিয়া সম্পন্ন হয়। তবে জেলা পরিষদের বাকি ১২ জন সদস্য কেন উপস্থিত ছিলেন না, সে বিষয়ে বিস্তারিত তথ্য জানা যায়নি।
নতুন সভাধিপতির দায়িত্ব গ্রহণের মধ্য দিয়ে জেলা পরিষদের কাজকর্মে কতটা গতি আসে, এখন নজর থাকবে সে দিকেই। জেলার গ্রামীণ এলাকার উন্নয়ন, রাস্তা, পানীয় জল, নিকাশি এবং বিভিন্ন জনকল্যাণমূলক প্রকল্প বাস্তবায়নে জেলা পরিষদের গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রয়েছে। ফলে নতুন নেতৃত্বের সামনে প্রশাসনিক কাজের ধারাবাহিকতা বজায় রাখার পাশাপাশি উন্নয়নমূলক প্রকল্পগুলিকে এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার চ্যালেঞ্জও থাকছে।
সভাধিপতি পদে পরিবর্তনের পর জেলা পরিষদের রাজনৈতিক সমীকরণেও তার প্রভাব পড়তে পারে বলে মনে করা হচ্ছে। তবে নতুন সভাধিপতি দায়িত্ব নেওয়ার পর কোন কোন ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার দেবেন, তা এখনও স্পষ্ট নয়। জেলা পরিষদের কাজের স্বচ্ছতা, সদস্যদের নিয়মিত অংশগ্রহণ এবং উন্নয়নমূলক প্রকল্পের বাস্তবায়ন এই তিনটি বিষয়ই আগামী দিনে গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠতে পারে।
সব মিলিয়ে, অনাস্থা প্রস্তাব পাস হওয়ার পর বুধবারের নির্বাচনের মাধ্যমে কোচবিহার জেলা পরিষদ পেল নতুন সভাধিপতি। এখন হিমানী ঈশরের নেতৃত্বে জেলা পরিষদের কাজ কোন পথে এগোয়, সেদিকেই তাকিয়ে জেলার রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক মহল।





