খবরিয়া ২৪ ডেস্ক, ১৭ জানুয়ারিঃ রাজ্যে নিপা ভাইরাসে আক্রান্তের হদিস মিলতেই স্বাভাবিকভাবেই উদ্বেগ বেড়েছে বিভিন্ন জেলায়। তবে এই আতঙ্কের মধ্যেও এক ব্যতিক্রমী ছবি ধরা পড়েছে বাঁকুড়ার ওন্দা ব্লকের মাজডিহা গ্রামে। হাজার হাজার বাদুড়ের সঙ্গে কয়েকশো বছরের সহাবস্থান আজও অটুট এই গ্রামের মানুষের। সতর্ক থাকার কথা বললেও, বাদুড়দের সঙ্গে সম্পর্ক ছিন্ন করার কথা ভাবতেই নারাজ গ্রামবাসীরা।
মাজডিহা গ্রামকে অনেকেই ‘বাদুড়ের স্বর্গরাজ্য’ বলে থাকেন। গ্রামের আনাচ-কানাচে, বড় বড় গাছের ডালে ডালে নিরাপদ আশ্রয়ে বসবাস করে অসংখ্য বাদুড়। প্রজন্মের পর প্রজন্ম ধরে এই বাদুড়দের সঙ্গে একই ছাদের তলায় বাস করে আসছেন গ্রামের মানুষ। কারা আগে মানুষ না বাদুড় তা কেউ জানেন না। তবে সকলেই মানেন, বাদুড়েরা এই গ্রামেরই আপন বাসিন্দা।
শতাব্দীর পর শতাব্দী ধরে গ্রামবাসীরাই চোরা শিকারীদের হাত থেকে বাদুড়দের রক্ষা করে এসেছেন। নিজেরা বাদুড় মারার কথা তো দূরের, আশপাশের গ্রাম থেকে কেউ বাদুড়কে বিরক্ত করতে এলেও প্রতিরোধ গড়ে তোলেন মাজডিহার মানুষ। এই কারণেই বছরের পর বছর ধরে গ্রামের গাছে গাছে বাদুড়ের সংখ্যা বেড়েছে। বর্তমানে কয়েক হাজার বাদুড় নিরাপদে বসবাস করছে এই গ্রামে।
বাদুড়বাহিত নিপা ভাইরাসের কথা গ্রামের মানুষ জানেন। সম্প্রতি রাজ্যে নিপা সংক্রমণের প্রমাণ মেলার পর চিকিৎসক ও বিজ্ঞানীরা বাদুড়ের দেহরস থেকে দূরে থাকার পরামর্শ দিচ্ছেন। সেই সতর্কবার্তা পৌঁছেছে মাজডিহার মানুষের কাছেও। তবু ভীত নন তাঁরা। গ্রামবাসী সোমা ঘোষ বলেন, “ওদের ডাকেই আমাদের ঘুম ভাঙে। ওরা আমাদের জীবনের অংশ। ওরা থাকবে না এ কথা ভাবতেই পারি না।” আরেক বাসিন্দা সুশীল ঘোষের সাফ কথা, “এই গ্রাম থেকে বাদুড়দের সরানোর ক্ষমতা কারও নেই।”
এদিকে স্বাস্থ্য দফতর অযথা আতঙ্ক না ছড়ানোর পাশাপাশি বাড়তি সতর্ক থাকার পরামর্শ দিয়েছে। উপ মুখ্য স্বাস্থ্য আধিকারিক সজল বিশ্বাস জানান, নিপা সংক্রমণ এড়াতে সচেতনতা জরুরি। আতঙ্ক নয়, সতর্কতাই এখন মাজডিহার মানুষ ও বাদুড়দের সহাবস্থানের নতুন চাবিকাঠি।





