খবরিয়া ২৪ ডেস্ক, ২৯ ডিসেম্বরঃ মানুষ ও বন্যপ্রাণীর মধ্যে ক্রমবর্ধমান দূরত্ব কমিয়ে শান্তিপূর্ণ সহাবস্থানের পথ খুঁজতেই বাগডোগরায় শুরু হয়েছে ‘হাতিবন্ধু মেলা’। সোমবার থেকে বাগডোগরা রেঞ্জ অফিস চত্বরে কার্শিয়াং বন বিভাগের উদ্যোগে আয়োজিত এই মেলার মূল উদ্দেশ্য-হাতি সহ বন্যপ্রাণীর সঙ্গে মানুষের সহমর্মিতার সম্পর্ক গড়ে তোলা এবং সংঘাত কমাতে বাস্তবভিত্তিক সচেতনতা ছড়িয়ে দেওয়া।
মেলার উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে কার্শিয়াং বন বিভাগের ডিএফও দেবেশ পাণ্ডে হাতি–মানুষ সংঘাত রোধে বিভাগের বিভিন্ন পদক্ষেপের কথা তুলে ধরেন। তিনি জানান, হাতির চলাচলের করিডর চিহ্নিতকরণ, গ্রামভিত্তিক সচেতনতা শিবির, দ্রুত সতর্কীকরণ ব্যবস্থা এবং স্থানীয় মানুষের অংশগ্রহণে নজরদারি-এই সম্মিলিত উদ্যোগের ফলেই ধীরে ধীরে পরিস্থিতির ইতিবাচক পরিবর্তন সম্ভব হয়েছে। তাঁর বক্তব্যে বারবার উঠে আসে একটি স্পষ্ট বার্তা-হাতি প্রকৃতির অবিচ্ছেদ্য অংশ, শত্রু নয়; এই উপলব্ধিই সহাবস্থানের প্রথম শর্ত।
মেলার একটি গুরুত্বপূর্ণ দিক ছিল সম্মাননা প্রদান অনুষ্ঠান। বন ও মানুষের সীমারেখায় দাঁড়িয়ে প্রতিনিয়ত ঝুঁকি নিয়ে কাজ করা বনকর্মীদের সম্মান জানানো হয়। একই সঙ্গে বন সংরক্ষণ ও মানব–বন্যপ্রাণী সহাবস্থানে সক্রিয় ভূমিকা নেওয়া যৌথ বন ব্যবস্থাপনা সমিতিগুলিকেও স্বীকৃতি দেওয়া হয়, যা এই আন্দোলনের সামাজিক ভিত্তিকে আরও মজবুত করে।
সচেতনতার পাশাপাশি মেলায় জীবিকা ও সংস্কৃতির মেলবন্ধনও নজর কাড়ে। খাদ্যদ্রব্য, ভেষজ ও জৈব কৃষিজাত পণ্য, হস্তশিল্প এবং গাছপালার স্টলগুলিতে দর্শনার্থীদের ভিড় ছিল উল্লেখযোগ্য। শিশুদের অংশগ্রহণে সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান মেলার পরিবেশকে প্রাণবন্ত করে তোলে এবং পরিবেশ সংরক্ষণের বার্তা পৌঁছে দেয় ভবিষ্যৎ প্রজন্মের কাছে।
আয়োজকদের মতে, ‘হাতিবন্ধু মেলা’ শুধুমাত্র একটি অনুষ্ঠান নয়, বরং একটি সামাজিক বার্তা। আজ ও আগামীকাল পর্যন্ত চলা এই মেলার মাধ্যমে মানুষের মধ্যে এই বিশ্বাস আরও দৃঢ় হবে বনের পাশে বসবাস মানেই সংঘাত নয়, সচেতনতা ও সহমর্মিতাই পারে মানুষ ও হাতির সহাবস্থানের পথ দেখাতে।





