নয়াদিল্লী, ২৫ সেপ্টেম্বরঃ ভোটার তালিকা সংশোধন ঘিরে এবার নির্বাচন কমিশনের অন্দরেই মতভেদের ছবি সামনে এল। একটি সর্বভারতীয় সংবাদমাধ্যমের তদন্তমূলক প্রতিবেদনে দাবি, গত ১০ মাসে অন্তত ১৪ বার কমিশনের সিদ্ধান্ত নিয়ে লিখিত আপত্তি জানিয়েছিলেন দুই নির্বাচন কমিশনার সুখবীর সিং সান্ধু ও বিবেক যোশী। বিতর্কের আবহেই গোয়ায় ৯৭ জন ভোটারের নাম চূড়ান্ত তালিকায় না ওঠার ঘটনা নতুন করে প্রশ্ন তুলেছে কমিশনের তথ্যপ্রযুক্তি ব্যবস্থার ভূমিকা নিয়ে।
ঘটনার সূত্রপাত গোয়ার ভোটার তালিকার বিশেষ সংশোধন বা SIR-কে ঘিরে। ‘লজিক্যাল ডিসক্রেপেন্সি’ ধরা পড়েছিল বেশ কিছু ভোটারের ক্ষেত্রে। অর্থাৎ, পুরনো ভোটার তালিকার সঙ্গে কোনও ভোটারের তথ্য, যেমন বাবা-মা বা পরিবারের সদস্যের নাম কিংবা বয়সের সংযোগে অসঙ্গতি দেখা গিয়েছিল। সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশের পর এই ধরনের ভোটারদের নথি জমা দিয়ে নিজেদের অবস্থান জানানোর সুযোগ দেওয়া হয়।
গোয়ায় ৬৪৯ জন এই প্রক্রিয়ায় নিজেদের নথি জমা দেন। তাঁদের মধ্যে ৯৭ জনকে স্থানীয় নির্বাচন নিবন্ধন আধিকারিক বা ERO-রা যাচাইয়ের পর ভোটার তালিকায় অন্তর্ভুক্তির যোগ্য বলে মনে করেন। অর্থাৎ, আগের বাদ দেওয়ার সিদ্ধান্ত সংশোধন করার প্রয়োজন ছিল। কিন্তু অভিযোগ, সেই সংশোধন করার জন্য প্রয়োজনীয় ‘রোলব্যাক’ সুবিধা ECINet সফ্টওয়্যারে সক্রিয় ছিল না।
আর সেখানেই তৈরি হয় বিতর্ক। ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেসের প্রতিবেদনের দাবি, ১১ থেকে ১৭ ফেব্রুয়ারির মধ্যে গোয়ার মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিকের দফতর থেকে দিল্লিতে কমিশনের কাছে মোট আটটি ই-মেল পাঠানো হয়। প্রতিবারই সফ্টওয়্যারে প্রয়োজনীয় রোলব্যাক সুবিধা চালুর অনুরোধ জানানো হয়েছিল। কিন্তু ২১ ফেব্রুয়ারি চূড়ান্ত ভোটার তালিকা প্রকাশের সময় ওই ৯৭ জনের নাম সেখানে ছিল না।
তবে নির্বাচন কমিশনের ব্যাখ্যাও সামনে এসেছে। কমিশন জানিয়েছে, ECINet-এ Form 7-এর মাধ্যমে একবার কোনও নাম বাদ দেওয়ার পর তা ফেরানোর জন্য রোলব্যাকের ব্যবস্থা ছিল না। গোয়া CEO-র দফতর অবশ্য জানিয়েছে, ওই ৯৭টি মামলা পরে আলাদাভাবে BLO-দের মাধ্যমে প্রক্রিয়াধীন করা হয়েছে।
এই ঘটনার মধ্যেই কমিশনের দুই সদস্যের লিখিত আপত্তির প্রতিবেদন প্রকাশ্যে আসায় বিতর্ক আরও ঘনীভূত হয়েছে। তাঁদের আপত্তির বিষয়গুলির মধ্যে ছিল ভোটার তালিকায় নাম যোগ-বিয়োগ, Form 6-এ পরিবর্তন এবং ভোটার তথ্যভান্ডারে কেন্দ্রীয় নিয়ন্ত্রণের মতো বিষয়। কমিশনের তরফে অবশ্য দাবি করা হয়েছে, SIR-সহ সমস্ত সিদ্ধান্তই তিন কমিশনারের সম্মতিতেই নেওয়া হয়েছে।
ফলে গোয়ার ৯৭টি নাম এখন শুধু একটি ভোটার তালিকার ঘটনা নয়-ECINet, স্থানীয় নির্বাচন আধিকারিকের ক্ষমতা এবং কমিশনের অভ্যন্তরীণ সিদ্ধান্ত গ্রহণের পদ্ধতি নিয়েও নতুন করে প্রশ্ন তুলেছে।





