কলকাতা, ১৩ অক্টোবরঃ দুর্গাপুজো মানেই অসুরদলনী দেবীর আরাধনা, অশুভ শক্তির বিনাশের প্রার্থনা। সেই চেনা পৌরাণিক অনুষঙ্গেই এ বার রাজনৈতিক সুর। দুর্গতিনাশিনীর কাছে ‘ভারতবিরোধী’ শক্তির বিনাশ চাইলেন রাজ্যের পুর ও নগরোন্নয়ন মন্ত্রী অগ্নিমিত্রা পাল। তাঁর কথায়, দেশের অগ্রগতির পথে যারা বাধা হয়ে দাঁড়াচ্ছে, নিজেদের স্বার্থের বাইরে যারা কিছুই ভাবেনি, মা দুর্গা যেন তাদের শেষ করে দেন। দুর্গাপুজোর প্রাক্কালে মন্ত্রীর এই মন্তব্য ঘিরে রাজনৈতিক মহলে চর্চা শুরু হয়েছে।
সোমবার দুর্গাপুরের সিটি সেন্টারে প্রাক্-পুজোর অনুষ্ঠানে যোগ দিয়েছিলেন অগ্নিমিত্রা। সেখানেই বক্তব্য রাখতে গিয়ে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর নেতৃত্বে দেশের অগ্রগতির প্রসঙ্গ তোলেন তিনি। অগ্নিমিত্রার বক্তব্য, গোটা দেশ আরও শক্তিশালী হয়ে উঠছে। কিন্তু এই অগ্রযাত্রায় যারা বাধা দিতে চাইছে, তাদের বিনাশ হওয়া প্রয়োজন। তাঁর কথায়, “ভারতবিরোধী শক্তিগুলিকে শেষ করে দাও মা। যারা নিজেদের স্বার্থ ছাড়া এতদিন কিছুই ভাবেনি, সেই বদমাইশদেরও শেষ করে দাও।”
প্রতিবাদের নামে দেশবিরোধী শক্তি সক্রিয় হয়ে উঠছে রাজ্যের শাসকদলের নেতা-মন্ত্রীদের বক্তব্যে এমন অভিযোগ প্রায়ই উঠে আসে। সেই রাজনৈতিক আবহেই অগ্নিমিত্রার এই মন্তব্যকে তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করছে সংশ্লিষ্ট মহল। যদিও ‘ভারতবিরোধী শক্তি’ বলতে কাদের দিকে ইঙ্গিত করেছেন, তা নির্দিষ্ট করে জানাননি মন্ত্রী।
এদিন রাজ্যবাসীকে দুর্গাপুজোর শুভেচ্ছা জানানোর পাশাপাশি উৎসবের দিনগুলিতে সতর্ক থাকার আবেদনও জানান তিনি। তাঁর বক্তব্য, পুজোর সময় জরুরি পরিষেবা চালু থাকবে এবং পুলিশ-প্রশাসন পরিস্থিতির উপর নজর রাখবে। তবে প্রশাসনের পাশাপাশি সাধারণ মানুষকেও সচেতন থাকতে হবে। পরিবেশ সুরক্ষায় সরকারি নির্দেশিকা মেনে চলার বার্তাও দেন তিনি।
বাংলা ও বাঙালির সংস্কৃতি নিয়ে বিজেপির অবস্থান সম্পর্কেও বক্তব্য রাখেন অগ্নিমিত্রা। তাঁর দাবি, বিজেপি ক্ষমতায় এলে বাংলার সংস্কৃতির বিরোধিতা করবে এমন প্রচার ঠিক নয়। মহালয়ার অনুষ্ঠানে ইডেনে মানুষের বিপুল উপস্থিতিকে তার উদাহরণ হিসেবে তুলে ধরেন তিনি। আগামী দিনেও রাজ্যে আরও নানা উদ্যোগ নেওয়া হবে বলেও আশ্বাস দেন মন্ত্রী।
প্রাক্-পুজোর অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন পশ্চিম বর্ধমানের জেলাশাসক পুন্নাম্বলম এস, দুর্গাপুর পূর্বের বিধায়ক চন্দ্রশেখর বন্দ্যোপাধ্যায় এবং দুর্গাপুর পশ্চিমের বিধায়ক লক্ষ্মণচন্দ্র ঘোড়ুই। উৎসবের আবহে অগ্নিমিত্রার বক্তব্যে তাই একদিকে যেমন ছিল শুভেচ্ছা ও সতর্কতার বার্তা, অন্যদিকে তেমনই উঠে এল রাজনৈতিক প্রতিপক্ষ ও কথিত দেশবিরোধী শক্তির বিরুদ্ধে কড়া অবস্থানের ঘোষণা।





