নয়াদিল্লী, ১৫ অক্টোবরঃ একটি হত্যাকাণ্ড। চার বছর পেরিয়েও মুছে যায়নি পরিবারের ক্ষত। বরং নতুন করে সামনে এসেছে বিচার পাওয়ার আকুতি। অঙ্কিতা ভাণ্ডারী হত্যাকাণ্ড ঘিরে ফের উত্তপ্ত দিল্লি। বিজেপি নেতা দুষ্ম্যন্ত গৌতমকে সিকিমের রাজ্যপাল নিয়োগের সিদ্ধান্তের প্রতিবাদে ইন্ডিয়া গেটের কাছে অবস্থানে বসেছেন অঙ্কিতার বাবা-মা। বুধবার তাঁদের সেই প্রতিবাদে যোগ দিলেন লোকসভার বিরোধী দলনেতা রাহুল গান্ধী। সঙ্গে ছিলেন কংগ্রেস নেত্রী প্রিয়াঙ্কা গান্ধীও। অঙ্কিতার পরিবারের অভিযোগ, এই হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে দুষ্ম্যন্তের যোগ রয়েছে। সেই অভিযোগের তদন্ত সম্পূর্ণ হওয়ার আগে তাঁর রাজ্যপাল পদে নিয়োগ নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে পরিবার। তবে দুষ্ম্যন্তের বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগের সত্যতা আদালতে প্রমাণিত হয়েছে, এমন নয়।
২০২২ সালের ১৮ সেপ্টেম্বর। উত্তরাখণ্ডের একটি রিসর্টে রিসেপশনিস্ট হিসাবে কাজ করতেন ১৯ বছরের অঙ্কিতা। রিসর্টটির মালিক ছিলেন বিজেপি নেতা বিনোদ আর্যের ছেলে পুলকিত আর্য। আচমকাই নিখোঁজ হয়ে যান অঙ্কিতা। ছ’দিন পর উদ্ধার হয় তাঁর দেহ। তদন্তে সামনে আসে, তাঁকে যৌন পরিষেবা দিতে চাপ দেওয়া হয়েছিল বলে অভিযোগ। পরিবারের দাবি, এক ‘ভিআইপি’ অতিথির সঙ্গে শারীরিক সম্পর্ক স্থাপনে রাজি না হওয়ায় অঙ্কিতাকে খুন করা হয়। সেই ‘ভিআইপি’ দুষ্ম্যন্ত গৌতম বলে দীর্ঘদিন ধরেই দাবি করে আসছেন অঙ্কিতার বাবা-মা। যদিও এই অভিযোগের বিষয়ে নির্দিষ্ট আইনি অবস্থান ও তদন্তের ফল আলাদা করে বিবেচ্য।
সোমবার দুষ্ম্যন্তের রাজ্যপাল পদে নিয়োগের খবর সামনে আসার পরই নতুন করে প্রতিবাদে নামেন অঙ্কিতার পরিবার। রাষ্ট্রপতি দ্রৌপদী মুর্মুর কাছে তাঁদের আবেদন, অঙ্কিতার খুনের ঘটনায় সিবিআই তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত যেন এই নিয়োগ স্থগিত রাখা হয়।
পরিবারের সেই দাবির পাশে দাঁড়িয়ে ইন্ডিয়া গেটে অবস্থানে যোগ দেন রাহুল ও প্রিয়াঙ্কা। সমাজমাধ্যমেও অঙ্কিতার বিচার চেয়ে সরব হন রাহুল। কংগ্রেসের তরফে জানানো হয়, ন্যায়বিচারের দাবিতে অঙ্কিতার পরিবারের পাশে রয়েছে দল।
চার বছর আগের সেই মৃত্যু ফের রাজনৈতিক ও সামাজিক আলোচনার কেন্দ্রে। পরিবারের কাছে প্রশ্ন একটাই—অঙ্কিতার মৃত্যুর নেপথ্যে থাকা সমস্ত অভিযোগের নিষ্পত্তি কবে হবে? রাজ্যপাল নিয়োগ ঘিরে বিতর্কের মধ্যেই সেই প্রশ্নই নতুন করে সামনে এনে দিল ইন্ডিয়া গেটের অবস্থান।





