উত্তরপ্রদেশ, ১৪ অক্টোবরঃ উত্তরপ্রদেশের মসনদ দখলের লড়াইয়ে বিজেপিকে চ্যালেঞ্জ জানাতে ফের একজোট হওয়ার পথে কংগ্রেস ও সমাজবাদী পার্টি। আপাতত দ্বন্দ্ব বা মন কষাকষির বদলে লক্ষ্য একটাই বিরোধী ভোটকে এক ছাতার তলায় এনে গেরুয়া শিবিরকে কঠিন লড়াইয়ের মুখে ফেলা। দুই দলের শীর্ষ নেতৃত্বের মধ্যে প্রাথমিক আলোচনার পর আসন সমঝোতার খসড়াও তৈরি বলে খবর। এখন অপেক্ষা চূড়ান্ত সিদ্ধান্তের। সব ঠিক থাকলে শীঘ্রই প্রকাশ্যে আসতে পারে, আগামী বিধানসভা নির্বাচনে কোন দল কতগুলি আসনে লড়বে।
তবে এবারের সমীকরণে রয়েছে একটি উল্লেখযোগ্য দিক। সূত্রের খবর, কংগ্রেসের কিছু নেতাকে সমাজবাদী পার্টির প্রতীকেই প্রার্থী করার পরিকল্পনা রয়েছে। বিশেষ করে কংগ্রেসের ঐতিহ্যবাহী আসনগুলিতে স্থানীয় রাজনৈতিক প্রভাব ও জয়ের সম্ভাবনা বিচার করে এমন সিদ্ধান্ত নিতে পারে দুই শিবির। অর্থাৎ, আসন বণ্টনের ক্ষেত্রে শুধু দলের পুরনো দাবি নয়, গুরুত্ব পেতে পারে সংশ্লিষ্ট এলাকায় কোন দলের সাংগঠনিক শক্তি বেশি, সেই হিসাবও।
আগামী বছর উত্তরপ্রদেশে বিধানসভা নির্বাচন। তার আগে জোটের বার্তা দিয়ে সমাজবাদী পার্টি বুঝিয়ে দিয়েছে, বিজেপির বিরুদ্ধে লড়াইয়ে কংগ্রেসকে পাশে নিয়েই এগোতে চায় তারা। ২০১৭ সালের বিধানসভা নির্বাচনেও জোট বেঁধেছিল দুই দল। সে বার ৪০৩টি আসনের মধ্যে ২৯৮টিতে লড়েছিল সপা, আর কংগ্রেসের ভাগে ছিল ১০৫টি আসন। কিন্তু প্রত্যাশিত ফল না আসায় সেই জোটের সমীকরণ দীর্ঘস্থায়ী হয়নি। ২০২২ সালের নির্বাচনে কংগ্রেসকে ছাড়াই লড়াই করে সমাজবাদী পার্টি।
তবে সময়ের সঙ্গে বদলেছে রাজনৈতিক পরিস্থিতি। ২০২৪ সালের লোকসভা নির্বাচনে উত্তরপ্রদেশে বিরোধী শিবিরের সাফল্য দুই দলকেই নতুন করে আত্মবিশ্বাস জুগিয়েছে। সেই অভিজ্ঞতা থেকেই বিধানসভা ভোটে আসন সমঝোতার ক্ষেত্রে বাড়তি সতর্কতা নিতে চাইছে কংগ্রেস ও সপা। দুই দলেরই লক্ষ্য, ভোটের ময়দানে পরস্পরের শক্তিকে কাজে লাগানো এবং অপ্রয়োজনীয় ভোট কাটাকাটি এড়ানো।
সমাজবাদী পার্টি অবশ্য নিজেদের জেতা আসন নিয়ে আপস করতে নারাজ। ২০২২ সালের বিধানসভা ও ২০২৪ সালের লোকসভা নির্বাচনে যে আসনগুলিতে তারা জয় পেয়েছে, সেগুলি ধরে রাখার ব্যাপারে দলীয় নেতৃত্বের অবস্থান স্পষ্ট বলে খবর। কয়েকটি আসনে প্রার্থীদের প্রস্তুতি শুরুর নির্দেশও দেওয়া হয়েছে বলে জানা যাচ্ছে।
এবার আসন ভাগাভাগি নিয়ে দিল্লিতে দুই দলের বৈঠক হওয়ার কথা। সেই আলোচনাতেই চূড়ান্ত হবে সমঝোতার রূপরেখা। উত্তরপ্রদেশে বিজেপিকে ক্ষমতা থেকে সরানোর লক্ষ্যে এই জোট কতটা কার্যকর হয়, তার উত্তর মিলবে নির্বাচনের ফলেই। আপাতত নজর দিল্লির বৈঠকের দিকে সেখানেই স্পষ্ট হতে পারে কংগ্রেস ও সমাজবাদী পার্টির রাজনৈতিক রসায়নের পরবর্তী অধ্যায়।





