আলিপুরদুয়ার, ১৩ অক্টোবরঃ পুজোর ছুটিতে ডুয়ার্সের জঙ্গলে বেড়ানোর পরিকল্পনা করেন বহু পর্যটক। বনের পথে সাফারি, ওয়াচ টাওয়ার থেকে বন্যপ্রাণ দেখার অপেক্ষা, আর সন্ধ্যায় হোম স্টেতে নিরিবিলি সময় কাটানো সব মিলিয়ে বক্সা বরাবরই আকর্ষণের কেন্দ্র। কিন্তু এ বার উৎসবের মরশুমে সেই চেনা ছবি উধাও। জঙ্গল খুলেছে, অথচ পর্যটকদের দেখা নেই। সাফারির গাড়ি দাঁড়িয়ে, হোম স্টেগুলিও কার্যত ফাঁকা। বক্সার পর্যটন শিল্পে তাই এখন উদ্বেগের ছায়া।
গত ৩০ সেপ্টেম্বর থেকে ৯ অক্টোবর পর্যন্ত বাঘিনি ছাড়ার প্রস্তুতি ও সংশ্লিষ্ট পরিস্থিতির কারণে বক্সায় পর্যটন বন্ধ রাখা হয়েছিল। বিহার থেকে আনা তিন বছরের একটি বাঘিনিকে জঙ্গলে ছাড়ার পরে ১০ অক্টোবর বনাঞ্চল পর্যটকদের জন্য খুলে দেওয়া হয়। কিন্তু সেদিনই রাজাভাতখাওয়া গেটের কাছে বক্সায় ঢোকার রাস্তা অবরোধ করে বিক্ষোভ দেখান বনাঞ্চলের ভিতরে থাকা ১৮টি বনবস্তির বাসিন্দারা। সন্ধ্যার পরে অবরোধ উঠে গেলেও পর্যটনের চাকা আর সচল হয়নি।
এর পিছনে একাধিক কারণ রয়েছে বলে মনে করছেন পর্যটন ব্যবসায়ীরা। বনাধিকার আইন, ২০০৬ কার্যকর করা এবং বন দফতরের কড়াকড়ি নিয়মের প্রতিবাদে ৫ অক্টোবর থেকে অবস্থান-বিক্ষোভ চালাচ্ছেন বনবস্তির বাসিন্দারা। তাঁদের আন্দোলনে যোগ দিয়েছেন সাফারি গাড়ির চালকেরাও। তাঁদের দাবি, জনপ্রিয় চুনিয়া ওয়াচ টাওয়ার-সহ একাধিক সাফারি রুট বন্ধ থাকায় পর্যটকদের আগ্রহ কমেছে। মহাকাল রুট খোলা থাকলেও সেখানে যাওয়ার রাস্তা তৈরি না হওয়ায় পর্যটকদের খরচ বাড়ছে বলেও অভিযোগ।
আলিপুরদুয়ার ডিস্ট্রিক্ট ট্যুরিজম অ্যাসোসিয়েশনের সম্পাদক মানব বক্সির কথায়, পুজোর আগে তৈরি হওয়া পরিস্থিতিতে পর্যটকেরা বক্সা থেকে মুখ ফিরিয়ে নিয়েছেন। আগাম বুকিংও বাতিল করছেন অনেকে। সাফারি গাড়ির চালক কিষান দাসের বক্তব্য, পর্যটক না থাকলে গাড়ি চালিয়ে লাভ কী! দাবি পূরণ না হওয়া পর্যন্ত গাড়ি চালাবেন না বলেও জানিয়েছেন আন্দোলনকারীরা।
যদিও বন দফতরের বক্তব্য, ১০ অক্টোবর থেকেই বনাঞ্চল খুলে দেওয়া হয়েছে। বাঘিনিকে বিরক্ত না করার জন্য কিছু রুটে সাফারি বন্ধ থাকলেও একাধিক রুট খোলা রয়েছে। বাঘিনিকে নতুন পরিবেশের সঙ্গে মানিয়ে নেওয়ার সময় দিতে হবে বলেও জানিয়েছেন বক্সা টাইগার রিজার্ভের পূর্ব বিভাগের উপক্ষেত্র অধিকর্তা দেবাশিস শর্মা।
সব মিলিয়ে, জঙ্গল খুললেও বক্সার পর্যটনে এখনও স্বাভাবিক ছন্দ ফেরেনি। পুজোর মরশুমে পর্যটকদের ভিড়ের বদলে ফাঁকা সাফারি আর নিস্তব্ধ হোম স্টে এই ছবিই এখন উদ্বেগ বাড়াচ্ছে স্থানীয় পর্যটন ব্যবসায়ীদের।





